রাত ১২:১৮ | বুধবার | ১০ জুন, ২০২৬ | ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল | ২৩ জিলহজ, ১৪৪৭

আবারও ইসলামী ব্যাংকে দখলকারী চক্রের দৃষ্টি পড়েছে : বিরোধী দলীয় নেতা

সংসদ প্রতিবেদক

আবারও ইসলামী ব্যাংক দখলকারী চক্রের দৃষ্টি পড়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামির আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

শফিকুর রহমান ৬৮ বিধিতে দাঁড়িয়ে বলেন, যেহেতু ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক। দেশের মোট রেমিটেন্সের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আসে। যেহেতু তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের অব্যাহত অপপ্রচার এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের রাজনৈতিক হয়রানি সত্ত্বেও ২০১৬ সালে ব্যাংকটি ৪৪৭ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা অর্জন করে। সে সময় খেলাপি বিনিয়োগের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিবাদি সরকার নজিরবিহীন উপায়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দখল করে এবং ব্যাংক লুটপাট ও নিয়মের মাধ্যমে শুধু এই ব্যাংকেই নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলশ্রমতিতে ২০২৪ সালে ব্যাংকের মুনাফা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

খেলাপি বিনিয়োগের পরিমাণ মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫১ শতাংশ এসে পড়ছে। যেহেতু ফ্যাসিবাদ পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের পথে অগ্রসর হচ্ছিল।

এ সময় স্পিকার বলেন, বিরোধী দলের নেতা আপনি তো পরে আবার বলতে পারবেন। এই পর্যায়ে সবকিছু পরে আবার বলবেন।
এ কারণে পুরো নোটিশটি পড়তে পারেননি বিরোধী দলীয় নেতা।

বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের দেওয়া লিখিত নোটিশের বাকি অংশে উল্লেখ করা হয়, একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক ও অন্যায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পদত্যাগে বাধা করা হয়েছে।

যেহেতু, অতীতে জামায়াতি ব্যবস্থাপনার অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যেভাবে ব্যাংকটি দখল করা হয়েছিল এবং যার পরিণতিতে ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে ব্যাংক ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, আজ আবারও একই কৌশলে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের চেষ্টা চলছে। এর ফল যে ব্যাংক, গ্রাহক কিংবা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে না, তার প্রমাণ ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। একদিনেই গ্রাহকরা প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা আমানত প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, যা আস্থার সংকটের স্পষ্ট প্রতিফলন।

সেহেতু, দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারসমূহ বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সব প্রকার অন্যায়, অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রাখার স্বার্থে বিষয়টি কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে এই সংসদে অবিলম্বে আলোচনা করা একান্ত প্রয়োজনীয়।

 

জা ই / এনজি