০৬ এপ্রিল ২০২৬

দেশে গত সাড়ে পাঁচ বছর হাম-রুবেলার কোনও টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত না হওয়ায় বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এই সংকট মোকাবিলায় রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রংপুর- ৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের আনা জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে নবম দিন সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগের সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করে বলেন, “প্রতি চার বছর পর পর হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও গত সাড়ে পাঁচ বছর তা হয়নি। ফলে বিপুল সংখ্যক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং বর্তমানে হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে টিকার মজুদে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছিল, যার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে।”

টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী সংসদকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি এগিয়ে আনা হয়েছে। ৫ এপ্রিল থেকে প্রথম ধাপে ১৮টি জেলা এবং ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সরকারের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রথম দিনে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬ হাজার শিশু, যার মধ্যে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম দিনেই ৯৬ শতাংশ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ১২ লক্ষ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।”

পরবর্তী ধাপের সময়সূচি সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদকে জানান, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে এবং ৩ মে থেকে সারা দেশের অবশিষ্ট জেলা ও সিটি করপোরেশনগুলোতে এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি পালিত হবে।

চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রস্তুতি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, টিকার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের অন্ধত্ব ও শারীরিক জটিলতা রোধে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল বিতরণ করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাজশাহী হাসপাতালে নতুন করে ২৫০টি আইসোলেশন বেড স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া আইসিডিডিআর,বি-র উদ্ভাবিত মাত্র ৩০০ টাকা ব্যয়ের সাশ্রয়ী অক্সিজেন সিস্টেমের মাধ্যমে ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তহবিল 

সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফের সাথে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “করোনাকালীন সময়ের ব্যয় না হওয়া ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে ইউনিসেফ থেকে নতুন করে হামসহ অন্যান্য টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশে আর কখনও টিকার সংকট হবে না।”

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ের সব স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করে নিবিড় মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলেও সংসদকে অবহিত করেন মন্ত্রী।