রাত ৪:১৬ | শনিবার | ২৩ মে, ২০২৬ | ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল | ৫ জিলহজ, ১৪৪৭

মহাকাশে তৈরি বিদ্যুৎ আসবে পৃথিবীতে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করে সেখান থেকে পৃথিবী ও স্যাটেলাইটে বিদ্যুৎ পাঠানোর প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতির দাবি করেছে চীন। দেশটির বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারবিহীন উপায়ে চলমান লক্ষ্যবস্তুতেও বিদ্যুৎ পাঠানোর পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল মিলেছে।

সাম্প্রতিক পরীক্ষায় গবেষকেরা ১০০ মিটার দূরত্বে তার ছাড়াই বিদ্যুৎ পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন। পরীক্ষায় বিদ্যুৎ পরিবহনের দক্ষতা ছিল ২০ দশমিক ৮ শতাংশ। এতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৮০ ওয়াট শক্তি সরবরাহ করা গেছে।

শুধু স্থির যন্ত্র নয়, ড্রোনের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে থাকা একটি ড্রোন ৩০ মিটার দূর থেকে স্থিতিশীলভাবে ১৪৩ ওয়াট বিদ্যুৎ গ্রহণ করতে পেরেছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে উড়ন্ত ড্রোন বা মহাকাশযানকে মাঝপথেই তারবিহীনভাবে চার্জ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় সীমাবদ্ধতা হলো দিন-রাত ও আবহাওয়ার প্রভাব। কিন্তু মহাকাশে থাকা সৌরপ্যানেল প্রায় সব সময়ই সূর্যের আলো পেতে পারে। ফলে সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ তুলনামূলক স্থিতিশীল হতে পারে।

‘জুরি’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। এরপর ২০২২ সালের জুনে গবেষক দল মহাকাশ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভূমিভিত্তিক পরীক্ষামূলক যাচাই ব্যবস্থা সম্পন্ন করে। বর্তমানে প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে দীর্ঘ দূরত্বে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহনের প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে মহাকাশভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। এতে শুধু পৃথিবীতেই নয়, চাঁদ বা মহাকাশ স্টেশনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সহজ হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘসময় আকাশে থাকা ড্রোন, যোগাযোগ স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানের কার্যক্ষমতাও বাড়তে পারে।

তবে প্রযুক্তিটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বড় পরিসরে ব্যবহার শুরু করতে হলে বিদ্যুৎ পরিবহনের দক্ষতা, নিরাপত্তা ও ব্যয়ের মতো।

বিষয়গুলোতে আরও উন্নয়ন প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

আ ই / এনজি