রাত ২:১১ | সোমবার | ২৫ মে, ২০২৬ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল | ৭ জিলহজ, ১৪৪৭

বাজেটের আকার বাড়লেও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি: পরওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ মে ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বাজেটের আকার বাড়লেও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি, জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন হয়নি। কখনো কখনো দেখা গেছে বাজেট ছিল লুটপাটের হাতিয়ার।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। সেই বাজেট ক্রমেই বাড়তে বাড়তে আসন্ন বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাজেটের আকার বাড়লেও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।

আসন্ন বাজেট যেন দুর্নীতি ও লুটপাটের হাতিয়ার হতে না পারে এজন্য তিনি সরকারকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরার আহ্বান জানান।

রোববার (২৪ মে) রাজধানীর ইকোনোমিকস রিপোর্টাস ফোরামের অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত অর্থনীতি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিরোধী দল কেবল সংসদে কথা বলে চলে আসবে বিষয়টি তা নয়। দেশের উন্নয়নে সরকার ও বিরোধী দলকে সমান ভূমিকা রাখতে হয়। জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে নীতিগত ও আদর্শিক দায়িত্ব পালনে বরাবরই অটল। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামী অতীতে যেভাবে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে, আগামীতেও তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ট্রেডিশনাল বাজেট থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বাজেট তৈরির প্রক্রিয়া হচ্ছে নতুন সরকার কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ বাড়াবে। কিন্তু যারা বাজেট তৈরি করেন, তারা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্যোগে ট্রেডিশনাল পদ্ধতির বাজেট তৈরি থেকে বেরিয়ে এসে সর্বজনীন বাজেট তৈরি করতে হবে। বাজেট তৈরির লক্ষ্য হতে হবে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ব্যতীত আমাদের উন্নত দেশের অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

সভাপতির বক্তব্যে ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং অর্থপাচার বন্ধে সরকারকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। তেলা মাথায় তেল দেওয়া বাজেট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাজেট হতে হবে সর্বজনীন।

স্বাধীনতা পরবর্তী যতগুলো বাজেট হয়েছে সবগুলো ঋণনির্ভর বাজেট ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঋণনির্ভর বাজেটে অর্থনীতির গতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাজেট চায়, যে বাজেটের মাধ্যমে জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা থাকবে। ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল করতে হবে।

 

 

জা ই / এনজি