বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই আর্জেন্টিনার জয়টা যেন অবধারিত। লাতিন ফুটবলের এই পরাশক্তি দেশটি চলমান বিশ্বকাপের আসরসহ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে ২০ বার, এর মধ্যে শেষ চারের মঞ্চে পা রাখতে পেরেছে ছয় বার। পরিসংখ্যান বলছে, সেমিফাইনালে ওঠার পর প্রতিবারই তারা ফাইনালের টিকিট কেটেছে।
আজ (রোববার) কানসাসে চলমান বিশ্বকাপের শেষ কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। অন্যদিকে, নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে ইংল্যান্ড। আগামী বুধবার আটলান্টায় সেমিফাইনালের লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশ মুখোমুখি হবে।
ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন এই মহারণে। একদিকে আলবিসেলেস্তেদের সামনে টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন, অন্যদিকে সেমিফাইনালে অজেয় থাকার রেকর্ডটা অক্ষুন্ন রাখার চ্যালেঞ্জ।
চলুন দেখে নেওয়া যাক আর্জেন্টিনার আগের পাঁচ সেমিফাইনাল।
বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই শেষ চারে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়ে ৬-১ গোলের বিশাল জয়ে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখে তারা।
আর্জেন্টিনা ২ : ০ বেলজিয়াম (১৯৮৬ বিশ্বকাপ)
ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অফ গড’ আর ‘শতাব্দীর সেরা গোলে’ ইংল্যান্ড বধের পর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে ছিল বেলজিয়াম। সে ম্যাচেও একক জাদুতে জোড়া গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে ফাইনালে তোলেন ম্যারাডোনা। পরে দ্বিতীয় বিশ্বকাপও জেতে আকাশী-সাদারা।
নেপলসের সান পাওলো স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ইতালির বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল স্নায়ুযুদ্ধের। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচটি ১-১ সমতায় থাকার পর টাইব্রেকারে গোলকিপার সার্জিও গয়কোচিয়ার অতিমানবীয় দক্ষতায় স্বাগতিকদের স্তব্ধ করে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
নেদারল্যান্ডস ০ : ০ আর্জেন্টিনা, টাইব্রেকারে ২-৪ জয় (২০১৪ বিশ্বকাপ)
দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও সেমিফাইনালের মঞ্চে আর্জেন্টিনা। করিন্থিয়ান্স অ্যারেনায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াই ছিল গোলশূন্য। এবার টাইব্রেকারের নায়ক সার্জিও রোমেরো। ডাচদের দুটি শট ঠেকিয়ে লিওনেল মেসিকে তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালের স্বাদ এনে দেন তিনি।
আর্জেন্টিনা ৩ : ০ ক্রোয়েশিয়া (২০২২ বিশ্বকাপ)
লুসাইল স্টেডিয়ামে ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্স-আপ ক্রোয়েশিয়াকে কোনো সুযোগই দেয়নি আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির জাদুকরী অ্যাসিস্ট আর জুলিয়ান আলভারেজের জোড়া গোলে ক্রোয়াটদের ৩-০ ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। পরেরটা তো ইতিহাস। তিন যুগের আক্ষেপ ঘুচিয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।
ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা (২০২৬ বিশ্বকাপ?)
এবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে হাড্ডাহাড্ডি এক লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এবার কি হবে তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আরও দিন দুয়েক।
পরিসংখ্যান বলছে, এবারের আগে পাঁচ আসরের পাঁচটিতেই ফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে ১৯৭৮ সালে ফরম্যাট ভিন্ন হওয়ায় সেমিফাইনাল ছিল না, সরাসরি ফাইনাল হয়েছিল। সেবারও শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে আর্জেন্টিনা।






