বিকাল ৫:২০ | বৃহস্পতিবার | ৭ মে, ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল | ১৯ জিলকদ, ১৪৪৭

হাম প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও কেন বাড়ছে শিশু মৃত্যু?

বিশেষ প্রতিবেদন

 

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে রেকর্ড ১৭ জন শিশুর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মার্চের মাঝামাঝি থেকে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকার দেশব্যাপী ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এমআর-১ বুস্টার ডোজ টিকা প্রদান শুরু করেছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, সরকারের নেওয়া টিকা কার্যক্রমে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ শিশু টিকা পেয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রধানত টিকা কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে, যা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ সতর্কতা বাস্তবে এক ধরনের মহামারিরই ইঙ্গিত দেয়। এ পরিস্থিতিতে আরও আগেই ‘জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা’ ঘোষণা করা দরকার ছিল, কিন্তু সরকার সেটি করেনি। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা এবং শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এছাড়া, আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে কঠোর আইসোলেশন ব্যবস্থা করা উচিত ছিল, কিন্তু সরকার সেটিও করেনি।

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে রেকর্ড ১৭ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায়, সরকার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বুস্টার ডোজ টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা দেখাতে ২-৩ সপ্তাহ সময় লাগে, যা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে

জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম বারী বলেন, বর্তমানে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এতে ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুদের শরীরে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ৫০ শতাংশ এবং ৯ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ৮৫ শতাংশ। তবে, কার্যকারিতা পেতে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে। এছাড়া ক্যাম্পেইনে ৫ বছরের পরিবর্তে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করা গেলে, যেমনটি ২০১৪ সালের ক্যাম্পেইনে করা হয়েছিল, আক্রান্তের হার কিছুটা কমতে পারত। কারণ, শিশুদের পাশাপাশি হামে বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছে। শরীরে র‌্যাশ আসুক আর না আসুক জ্বর ও পাতলাপায়খানা দেখার সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে পারলে হামে আক্রান্তের হার হ্রাস পাবে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা, জনস্বাস্থ্য ও মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘এ মুহূর্তে হাম সারা বিশ্বেই বেড়েছে। কিন্তু আমাদের মতো এত শিশু মৃত্যু কোথাও হয়নি, এমনকি আফ্রিকাতেও না। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সমন্বিত এবং বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ না থাকার কারণেই এতগুলো শিশুকে আমাদের হারাতে হলো।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র টিকাদান কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করা পর্যাপ্ত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ সতর্কবার্তা মহামারির ইঙ্গিত দেয়। এই পরিস্থিতিতে আরও আগেই ‘জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা’ ঘোষণা এবং আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে কঠোর আইসোলেশন ব্যবস্থা করা প্রয়োজন ছিল, যা সরকার করেনি

‘অন্যান্য সরকারের মতো বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটতে শুরু করেছে। হামে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে। ভ্যাকসিনের প্রভাব শুরু হলে আক্রান্তের হার কিছুটা কমবে, কিন্তু এর পরও মৃত্যু ঝুঁকি এক মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। যথাযথ টিকাদান, সময়মতো চিকিৎসা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ রোগে মৃত্যুও প্রতিরোধ করা সম্ভব। কোনোভাবেই একটি গোটা প্রজন্মকে আমরা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারি না।’

তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত চিকিৎসা ও ভর্তি ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বড় হাসপাতালের ওপর নির্ভর না করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিটি কর্পোরেশনের সেকেন্ডারি কেয়ার হাসপাতালগুলোকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাতে হবে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের যদি উপজেলা পর্যায়ে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তাদের বড় ধরনের সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।’

হঠাৎ করে হামে শিশুদের এত মৃত্যু বেড়েছে কেন— এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিম বলেন, ‘আমরা শিশুদের মৃত্যুর কারণ খুঁজছি। এখন পর্যন্ত আমরা নির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাইনি। তবে অনেকেই হাসপাতালে আসতে দেরি করছে, এ কারণে তাদের সমস্যা আরও তীব্র হচ্ছে। তবে, নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না কী কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এ বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করছি হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করতে।’

রুটিন টিকাদান কার্যক্রমে গত বছর স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি ও আন্দোলন বাধার সৃষ্টি করে। ন্যাশনাল ইপিআই সার্ভিলেন্সের তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম, অর্থাৎ তাদের টিকা নেওয়ার সময় হয়নি। নিশ্চিত হামে আক্রান্তদের মধ্যে ১৪.১ শতাংশ এক ডোজ এবং ১১.৭ শতাংশ দুই ডোজ টিকা গ্রহণ করেছে

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে হামে শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত চিত্র বুঝতে হলে আরও গভীর ও প্রমাণভিত্তিক গবেষণা জরুরি। বিশেষ করে মৃত শিশুদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণ, হাম হওয়ার কতদিন পর তারা হাসপাতালে এসেছে, কী ধরনের জটিলতা নিয়ে ভর্তি হয়েছিল, সবার ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ছিল কি না এবং নিউমোনিয়ার পাশাপাশি আর কী কী রোগ ছিল— এসব তথ্য বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কতজন শিশু দেরিতে হাসপাতালে এসেছে, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং কোন কোন ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে— এসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার।

এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. ফোয়ারা তাসনিম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালকের (প্রশাসন) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে, তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. লুৎফন নেসা বলেন, ‘হাম শিশুদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ রোগ প্রতিরোধ সেল ধ্বংস করে দেয়। হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। তখন যদি শিশুর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি থাকে, তাহলে সমস্যা আরও তীব্র হয়। হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া আক্রান্ত হলে রোগীর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, এর ফলে অক্সিজেন স্বল্পতা তৈরি হয়। এটি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে হাসপাতালের অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়েও সুস্থ করা সম্ভব হয় না।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে আসা হামে আক্রান্তদের অধিকাংশই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। তাদের যে আয়, তা দিয়ে সন্তানদের প্রয়োজনীয় আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। এর ফলে শিশুদের প্রোটিনের ঘাটতি দেখা যায় এবং তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এছাড়া, নানা কারণে ব্রেস্টফিডিংয়ের হার কমে গেছে। ফলে মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে শিশু যে পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পায়, সেটাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নানা কারণেই শিশুরা হামে আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছে। তবে বর্তমানে যে টিকা কার্যক্রম চলমান আছে, আর কিছুদিন পরে শিশুদের শরীরে এর প্রভাব পড়তে শুরু করবে।’

রুটিন টিকা কার্যক্রমে ভাটা

হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পর গত ২৯ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আট বছর আগে মিজেলসের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল, এরপর কোনো সরকার ভ্যাকসিন দেয়নি। অথচ সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা যায়, বিগত বছরগুলোতে রুটিন হামের টিকা কভারেজ অনেক বেশি ছিল। ২০২৪ সালে রুটিন এমআর টিকার হার ছিল ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০২২ সালে ৯৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ। এ বছরের মার্চ মাসে ইপিআইয়ের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালে টিকার কভারেজ ৫৯ শতাংশ দেখানো হয় (পরে এই তথ্য ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়)।

২০২৫ সালে টিকা প্রদানের হার কম হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ইপিআইয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, গত বছর স্বাস্থ্য সহকারীরা তিন দফায় কর্মবিরতি পালন করেন, যা টিকাদান কার্যক্রমে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে। এছাড়া, ২০২৪ সালে অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক স্বাস্থ্য সহকারীর চাকরি চলে যায়। এতে মাঠপর্যায়ে টিকা প্রদানে বাধা সৃষ্টি হয়। এছাড়া, গত ১০ মাস ধরে পোর্টারদের বেতন বন্ধ থাকায় অনেক পোর্টার টিকাকেন্দ্রে টিকা পৌঁছে দেওয়ার কাজ থেকে বিরত থাকেন। ফলে স্বাস্থ্য সহকারীরাও টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা না পেয়ে ফিরে যান। এসব কারণে মাঠপর্যায়ে টিকা কার্যক্রমে ভাটা সৃষ্টি হয়। তবে টিকা কার্যক্রম একেবারে বন্ধ ছিল, তা বলা যাবে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম বারী বলেন, গত বছর টিকা প্রদানের হার কমার অন্যতম কারণ ছিল স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলন ও কর্মবিরতি। এছাড়া, ওপি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টিকা পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায়ও জটিলতা তৈরি হয়। পাশাপাশি কোভিড-পরবর্তী টিকাভীতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকাবিরোধী প্রচারণার কারণেও টিকা কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে।

২০২৫ সালের টিকা কভারেজ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইপিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, স্বাস্থ্য সহকারীরা সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন করায় এ সময়ে টিকাদানের তথ্য নিয়মিত আপলোড করা হয়নি, ফলে ড্যাশবোর্ডে কভারেজ ৫৯ শতাংশ দেখাচ্ছিল। তবে, প্রকৃত কভারেজ এর চেয়ে বেশি। ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সরিয়ে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর টিকা কভারেজ কম হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

টিকা নেওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

রাজধানীর শনিরআখড়া থেকে দুই মাস বয়সী আবদুল্লাহকে নিয়ে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি হন মা সনিয়া খানম। গত তিন দিন ধরে আবদুল্লাহ পাতলা পায়খানায় ভুগছিল। ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ানো হলেও কোনোভাবেই তা কমছিল না। এর মধ্যে গতকাল সকালে জ্বর ও শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয়। পরে মুগদা মেডিকেলে গেলে সিট না পেয়ে তাকে অন্য হাসপাতালে নিতে হয়।

টিকা নেওয়ার পরও হামে আক্রান্ত

ন্যাশনাল ইপিআই সার্ভিলেন্সের তথ্য অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে আক্রান্তদের মধ্যে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ এক ডোজ এবং ১১ দশমিক ৭ শতাংশ দুই ডোজ টিকা গ্রহণ করেছে। এছাড়া, ৭৪ শতাংশ আক্রান্ত কোনো টিকা নেয়নি। হাম সন্দেহে আক্রান্তদের মধ্যে দুই ডোজ নেওয়ার পরও ২১ দশমিক ৯ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছে, ১৯ শতাংশ এক ডোজ নিয়েছে এবং বাকি ৫৯ শতাংশ কোনো টিকা নেয়নি।

হাম থেকে সুস্থ হওয়ার পরও শিশুরা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের মুখে ঘা হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। এতে তারা ঠিকমতো খেতে পারে না এবং ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। একই সঙ্গে শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি তৈরি হয়, যা চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

তিনি বলেন, ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে চোখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং কর্নিয়া ঝাপসা হয়ে যায়। সময়মতো চিকিৎসা না করলে কর্নিয়ায় ঘা তৈরি হয়ে অন্ধত্বও হতে পারে।

তিনি আরও জানান, হাম কখনও কখনও শিশুর মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে। এতে দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক জটিলতা, এমনকি খিঁচুনিও হতে পারে। এছাড়া, কানে সংক্রমণ হয়ে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়, যা ফুসফুসে স্থায়ী ক্ষত তৈরি করতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি অনেক শিশু মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভোগে, যা তাদের সার্বিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আ হে / এনজি