গরম পড়তেই নতুন এসি কেনার পরিকল্পনা শুরু করেন অনেকেই। দোকানে গেলেই শোনা যায় ১ টন, ১.৫ টন কিংবা ২ টনের এসি। তখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ‘এসি কি সত্যিই এত টন ওজনের?’ শুনতে অবাক লাগলেও, এসির ক্ষেত্রে ‘টন’ শব্দটি মোটেও যন্ত্রের ওজন বোঝায় না। বরং এটি এসির ঠান্ডা করার ক্ষমতার একটি পরিমাপ।
ঘর ঠান্ডা করার এই ধারণার শুরু বহু বছর আগে, যখন আধুনিক এয়ার কন্ডিশনার ছিল না। তখন বরফ ব্যবহার করে ঘর ঠান্ডা করা হতো। সেই সময় দেখা যায়, এক টন বরফ ২৪ ঘণ্টায় গলে যে পরিমাণ তাপ শোষণ করতে পারে, আধুনিক এসির কুলিং ক্ষমতাও ঠিক সেই হিসাব ধরেই মাপা হয়। সেখান থেকেই এসেছে ‘টন’ শব্দটি।
সহজভাবে বললে, ১ টন এসি মানে হলো এমন একটি এসি, যা এক ঘণ্টায় প্রায় ১২,০০০ বিটিইউ (ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) তাপ অপসারণ করতে পারে। অর্থাৎ, এটি ঘরের ভেতরের গরম বাতাস সরিয়ে সেই পরিমাণ ঠান্ডা তৈরি করার সক্ষমতা রাখে। তাই টন যত বেশি হবে, এসির কুলিং ক্ষমতাও তত বেশি হবে।
সাধারণভাবে ছোট বেডরুমের জন্য ১ টনের এসি যথেষ্ট হতে পারে। মাঝারি আকারের ঘরে ১.৫ টন ভালো কাজ করে। আর বড় ড্রয়িংরুম বা খোলা জায়গার জন্য ২ টনের এসি বেশি উপযোগী। প্রয়োজনের তুলনায় কম টনের এসি নিলে ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা হবে না, আবার অতিরিক্ত বড় এসি নিলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে।
এছাড়া বর্তমানে ইনভার্টার প্রযুক্তির কারণে অনেক এসি প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের কুলিং ক্ষমতা কম-বেশি করতে পারে। ফলে সঠিক টন নির্বাচন করলে শুধু আরামই নয়, বিদ্যুৎ বিলও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।





