সংসদ প্রতিবেদক
২৩ জুন ২০২৬
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় সংসদে যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোসলেহউদ্দিন ফরিদ বলেছেন, দেশে বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৮০ হাজার পদ খালি রয়েছে। একইসঙ্গে জনগণকে চিকিৎসার জন্য নিজেদের পকেট থেকে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে, যা মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭৯ শতাংশ।
তিনি বলেন, শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না; জনবল সংকট, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ, বিকল যন্ত্রপাতি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা দূর না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হবে না।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি স্বাস্থ্য বাজেট বাড়ানো, স্বাস্থ্য উপকরণের কর কমানো এবং স্নাতক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষাকে বিনামূল্যে করার উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
তবে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ ইতিবাচক হলেও লক্ষ্যমাত্রা হওয়া উচিত ৫ শতাংশ। তাঁর ভাষায়, আশপাশের অনেক দেশই এ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, বাংলাদেশকেও ধীরে ধীরে সে পথে যেতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতের বড় সংকট হিসেবে তিনি জনবল সমস্যার কথা তুলে ধরে এমপি ফরিদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দেশে রয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ জনবল। অনেক স্বাস্থ্যকর্মী গ্রাম বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি এবং চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের এলাকায় ধরে রাখার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
মোসলেহউদ্দিন ফরিদ বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য বাজেট যদি ৬৯ হাজার কোটি টাকা হয়, তাহলে জনগণকে নিজেদের পকেট থেকে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা ওষুধে এবং ২৫ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় খরচ হচ্ছে। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার ঠেকাতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ৫০ শতাংশের বেশি যন্ত্রপাতি সামান্য মেরামতের অভাবে বিকল হয়ে পড়ে আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব দ্রুত সচল করা গেলে রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর প্রয়োজন অনেক কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের এসডিজি-৩ অর্জনে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি। একইসঙ্গে পরিচালন খাত থেকে ২ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প খাত থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ফেরত যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, শুধু বরাদ্দ বাড়িয়ে নয়, মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করলেই সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবে।
জা ই/ এনজি






