পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় সদ্য সমাপ্ত ফেব্রুয়ারি মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের বাড়তি কেনাকাটা ও খরচ মেটানো দেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে প্রবাসীদের মধ্যে। এর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩০২ কোটি বা ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনা এই বছর ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫২ কোটি ডলার।
এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট দুই হাজার ২৪৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৮৪৯ কোটি মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫ সালে দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার।
চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স এসেছে- জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার এবং জানুয়ারিতে এসেছিল ৩১৭ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসাও কমেছে। পাশাপাশি, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার কারণে বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হচ্ছে।
টি আই / এনজি






