রাত ২:২০ | রবিবার | ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ৯ কার্তিক, ১৪৩৩, হেমন্তকাল | ১৩ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর সামনে রেখে ঢাকা-নারিতা রুটে বিমানের ফ্লাইট দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ অক্টোবর, ২০২৬

 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে সামনে রেখে ঢাকা-জাপানের নারিতা রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে এ রুটে সপ্তাহে একটি ফ্লাইটের পরিবর্তে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিমানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

বিমানের পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) মো. আশরাফুল আলম আজ বলেন, ‘ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা সপ্তাহে একটি থেকে বাড়িয়ে দুটি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ফ্লাইটটি আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে চালু হবে।’

তিনি বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি এখন থেকে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এর ফলে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সরাসরি আকাশ যোগাযোগ আরও জোরদার হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া চার দিনের সরকারি সফরে বিমানের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে জাপান যাবেন।

আশরাফুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২৯ অক্টোবর নারিতা থেকে বিমানের নতুন চালু হতে যাওয়া বৃহস্পতিবারের ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন।’

চলতি বছরের ২৭ জুলাই ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর প্রায় তিন মাসের মাথায় ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এক বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ওই ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের একমাত্র বিরতিহীন আকাশ যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রাথমিকভাবে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে সপ্তাহে একটি ফ্লাইটের মাধ্যমে এ রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করে বিমান। যাত্রী চাহিদা, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ফলাফল এবং উড়োজাহাজের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল সংস্থাটির।

এর আগে বিমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর পর যাত্রীদের কাছ থেকে উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া গেছে। বিশেষ করে জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশিরা এ সেবা ব্যবহারে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে জাপানে ৪০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মী বসবাস করছেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যাতায়াতের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এ রুটকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি যাত্রীদের উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য গন্তব্যে যাতায়াতের সুবিধা বাড়াতে নারিতাকে ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাপান এয়ারলাইন্স (জেএএল) ও এয়ার কানাডার সঙ্গে সম্ভাব্য কোডশেয়ার ব্যবস্থার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বিমান।

প্রস্তাবিত অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত হলে সমন্বিত টিকিটিং ও ব্যাগেজ ব্যবস্থার আওতায় নারিতা হয়ে ভ্যাঙ্কুভার, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিউলের মতো গন্তব্যে সংযোগ ফ্লাইটে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ঢাকা-নারিতা রুটে সরাসরি ফ্লাইট প্রথম চালু হয়েছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে, ১৭ বছর বিরতির পর। তবে উড়োজাহাজের সংকট, পরিচালন ব্যয় ও বাণিজ্যিক বিবেচনায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই এ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমান বিএনপি সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ও বিমান চলাচল সহযোগিতা জোরদারের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিমান এ রুটে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর পদক্ষেপ নেয়।

সাপ্তাহিক দ্বিতীয় ফ্লাইট চালুর সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে যাত্রীরা আরও বেশি সময়ে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রুটটির বাণিজ্যিক স্থায়িত্ব জোরদার করার ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফর করবেন।

সফরকালে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, বিমান চলাচল ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হবে।

 

 

জা ই/ এনজি