বিশেষ প্রতিবেদন
মাহমুদুল হাসান
২৪ অক্টোবর ২০২৬
ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ অর্থ বিশেষ করে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উন্নয়নে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অনুরোধের পর চলতি মাসের শুরুতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এডিবির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। ইআরডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো অর্থ একবারে না নিয়ে দুই থেকে তিনটি বার্ষিক কিস্তিতে পাওয়ার প্রত্যাশা করছে সরকার।
ইআরডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, অর্থ বিভাগের অনুরোধ পাওয়ার পর এডিবিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটির কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী।
তবে এডিবি এককভাবে পুরো অর্থ দিতে না পারলে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ (এআইআইবি) অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সহঅর্থায়নের জন্য যোগাযোগ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আরেক কর্মকর্তা।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয়, আমদানিনির্ভরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সরকারি ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার ছাদ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে এডিবি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে অর্থ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা), বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে সংস্থাটি।
এসব আলোচনায় জ্বালানি খাতের সংস্কার এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সংযুক্তি বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণেও সহায়তা করতে পারে।
বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচির মাধ্যমে অব্যবহৃত ছাদগুলোকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাস ও আমদানিকৃত জ্বালানির ব্যবহার কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির বোঝাও হ্রাস পেতে পারে।
তবে প্রস্তাবিত ২০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাজেট সহায়তার অর্থের সঙ্গে নীতিগত সংস্কার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামোয় বিনিয়োগের সম্পর্ক কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে অর্থায়ন কাঠামো চূড়ান্ত করতে হবে।
এডিবির সঙ্গে আলোচনার ফলাফল এবং অর্থ ছাড়ের শর্তের ওপর নির্ভর করবে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
মা হা/ এনজি






