রাত ২:০৭ | মঙ্গলবার | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৭ আশ্বিন, ১৪৩৩, শরৎকাল | ১০ রবিউস সানি, ১৪৪৮

কিছু কিছু প্রার্থীর উস্কানিমূলক বক্তব্য নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন —- মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদন

১৪ জানুয়ারি ২০২৬

 

 

কিছু কিছু প্রার্থীর উস্কানিমূলক বক্তব্য নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা আব্বাস।

বুধবার দুপুরে নয়া পল্টনে চায়না টাউন মার্কেটের কাছে সাংবাদিকদের কাছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘‘‘‘ কিছু কিছু প্রার্থী এমন কথা-বার্তা বলছেন, ওইগুলো উস্কানিমূলক কথাবার্তা। তাদের যে কাজকর্ম, তাদের কথাবার্তা অত্যন্ত উষ্কানিমূলক। তারা নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা লঙ্ঘন করে অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে কথা বলছেন। আপনি খেয়াল করে দেখবেন, আমি যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি সেই আসনের কিছু কিছু প্রার্থী যেমন আমার সম্পর্কে আজে-বাজে কথা বলতেছে। তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলছে যাতে আমরা একটু ইরিটেট হই। এই ব্যাপারে আমি নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানাবো তারা যেন এই ব্যাপারে একটু খেয়াল রাখেন।”

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘ আমি এই ব্যাপারে কোন রিঅ্যাকশন দিতে চাই না, দিবও না।  আমরা চাই, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হোক এবং সুন্দর হোক।”

বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় নয়া পল্টনে চায়না টাউন মাকের্টের সামনের ফুটপাত দিয়ে হেটে হকার, রিকসা চালক, সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

‘এখন প্রচারনা আসিনি, দেখা –সাক্ষাৎ’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘ আমরা এখনো ফরমাল নির্বাচনের প্রচলনা শুরু করি নাই। এখন এমনি দেখ-সাক্ষাত করা, এলাকার মধ্যে কথাবার্তা বলার জন্য বেরিয়েছি। যে এলাকায় আমি থাকি সেই এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা এটুকুই করছি । নির্বাচনের পরিচালনা শুরু করিনি। ”

‘‘কিন্তু এর মধ্যে আমি লক্ষ্য করছি, বেশ কিছু প্রার্থী তারা কিন্তু পরিচালনা চালাচ্ছে রীতিমতো। আমি সেরকম সেদিকে যাচ্ছি না। আমি শুধুমাত্র স্বাভাবিকভাবে যেটা করা দরকার একজনের দেখা সাক্ষাত করা আমি সেটাই করতেছি। আমি ভোট প্রার্থী প্রার্থনা করছি না, ভোট চাচ্ছিও না। যখন নির্বাচনের প্রচারনা শুরু হবে তখন ইনশআল্লাহ আমরা যথাযথভাবে আমাদের কাজ শুরু করব।”

‘পোস্টাল ব্যালট পেপার প্রসঙ্গে’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘ আমি যেটা দেখেছি, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এটা একেবারে উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছে। যাতে ব্যালট পেপারটা কনফিউজিং হয়ে যাবে, সিল মারার পরে এটা কনফিউজিং হয়ে যাবে।”

‘‘ আমি মনে করি নির্বাচন কমিশনের এটাকে ঠিক করা উচিত ইমিডিয়েটলি এবং এটা ঠিক না করে পেপার কোথায় যাওয়াও ঠিক না। আমি আশা করব নির্বাচন কমিশন এটাকে সুদৃষ্টি দেবেন এবং যাতে বিষয়টা পক্ষপাতমূলক না হয় এটা যেন তারা চেষ্টা করেন।”

‘আমি ঢাকা শহরে ভেসে আসিনি’

প্রশ্ন ছিলো, ঢাকা-আসনে কোনো প্রার্থী শাহজাহানপুর অভিমুখে বুলডোজার পাঠানো হবে, মবোক্রেসিকে উস্কে দিচ্ছে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘আমি এটা শুনেছি মানুষের মুখে। একটা কথা হচ্ছে, মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, করা উচিতও না। ঢাকা শহরে আমি আল্লাহর রহমতে ভেসে আসি নাই। একবারে যা ইচ্ছা তাই করে ফেলবে… ওটা সম্ভব না। চেষ্টা করতে পারে তবে এটার দায়-দায়িত্ব ওদেরকে বহন করতে হবে।”

‘‘আমার শাহজাহানপুরের দিকে আসবে কেন ভাই? আমি কি অপরাধ করছি নির্বাচন দাঁড়িয়ে? আমি নির্বাচন আজকে থেকে করি না… এটা নিয়ে আমার প্রায় পাঁচ/ছয়বারের মত নির্বাচনে প্রতিনিধিতা করছি। যারা নাকি একান্তেই দুর্বল প্রার্থী তারা সবল প্রার্থীর বিরুদ্ধে কথা বলবেই আমি এনাকে খুব একটা গায়ে মাখছি না।”

‘আইনশঙ্খলা পরিস্থতির নিয়ে শঙ্কা’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমি নিয়েও খুব শঙ্কিত কারণ। কয়েকদিন আগেও আমাদের একজন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।গতকালও একজনের উপরে আক্রমণ করা হয়েছে। ”

‘‘আইনশঙ্খলা পরিস্থিতিটা যাতে আরো খারাপ হয় এজন্য কিছু কিছু প্রার্থী কথা-বার্তা বলছে। ”

‘নেতা-কর্মীরা শান্ত থাকুন’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘ আমি আমার এলাকার ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাবো, তারা যেন যেকোন রকম উস্কানিমূলক কথা-বার্তা এবং কাজ-কর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। বিরত রাখেন মানে কি যেন কানে না তুলেন। কিছু কিছু লোক আসছেন যারা নাকি খুব সস্তায় পপুলারিটি পেতে চায়।”

‘‘ আমি নেতা-কর্মীদের বলব, যে কোনো উস্কানি হোক, উস্কানি দিক উত্তেজিত হওয়া যাবে না, নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকতে হবে।”

 

 

জা ই / এনজি