রাত ১২:২৩ | সোমবার | ২২ জুন, ২০২৬ | ৮ আষাঢ়, ১৪৩৩, বর্ষাকাল | ৬ মহর্‌রম, ১৪৪৮

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভারতীয় এক নাগরিকও নিহত হন।

 রোববার (২১ জুন) কাতারের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার (বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টা) দিকে আল শাহানিয়া শহরের সামাল সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।ওই এলাকায় বসবাসকারী সিলেটের কানাইঘাটের বাসিন্দা নাহিম আহমদ চৌধুরী এতথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নিহত বাংলাদেশিদের পাঁচজনই তার নিজ উপজেলা কানাইঘাটের বাসিন্দা।

নিহতরা হলেন- কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নুরের ছেলে জিবাল আহমদ (৩৫), মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩৮), আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ (২৭), একই গ্রামের মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ (২৮) ও দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ি গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদির আহমদ (৩৩)।

নিহতদের পারিবার ও কাতারের স্থানীয় সূত্র জানায়, পাঁচ প্রবাসী জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে কাতারে আছেন।

প্রতিদিনের মতো রোববারও বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার দিকে কাজের উদ্দেশে কাতারের দোহা থেকে একটি প্রাইভেট গাড়িযোগে আল-শাহানিয়া শহরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আল শাহানিয়া শহরের সামাল এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূল সড়ক থেকে দুমড়ে-মুচড়ে ছিটকে পড়ে।
এতে ঘটনাস্থলেই গাড়ির চালকসহ ছয়জন নিহত হন। তবে গাড়িরচালক ভারতীয় হওয়ায় তার-পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় লাশগুলো উদ্ধার করে কাতারের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।এ বিষয়ে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক বলেন, কাতারের বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহত পাঁচ প্রবাসীর লাশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নিহত কাদির আহমদের বাবা বাহার উদ্দিন বলেন, চার বছর আগে ছেলে কাতারে যায়। আগামী মাসে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। আমার ছেলেসহ অপর চারজন দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তারা কাতারের একটি মাজরায় (কৃষি ক্ষেত) কাজ করতো।

নিহত জসিম উদ্দিনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, তিন বছর আগে তার স্বামী জীবিকার তাগিদে কাতার যান। পরিবার তার আয়-রোজগারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। স্বামী মারা যাওয়ায় দুই শিশু সন্তান নিয়ে এখন তিনি কীভাবে জীবন-যাপন করবেন বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এদিকে লাশগুলো সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনাসহ সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য নিহতদের স্বজনরা সরকারের কাছে দাবি জানান।

দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন সদস্য মাহমুদ হোসেন বলেন, দুপুর ১টার দিকে আমরা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পাই। এ ঘটনায় এলাকাবাসী শোকাহত।

কানাইঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান শাকিল  বলেন, আমি সারা দিন মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নিহতদের বাড়িতে পাঠিয়েছি। তাদের যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন উপজেলা প্রশাসন করবে। এমনকি লাশ দেশে আনতে তারা আবেদন করলে সেটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

 

জা ই/ এনজি