আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি থেকে সব মাইন করতে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগবে বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। তার আগে কোনোভাবেই হরমুজকে মাইনমুক্ত করা সম্ভব নয়।
দ্বিতীয়ত, মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক রা জানিয়েছেন—হরমুজে বিভিন্ন ধরনের মাইন পেতেছে ইরান। এসবের মদ্যে রয়েছে বটম মাইন, যা সমুদ্রতলে থাকে এবং জাহাজ ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরিত হয়; টেদার্ড মাইন, যা নোঙর করা অবস্থায় পানির উপরিভাগের কাছাকাছি ভেসে থাকে; ড্রিফটিং মাইন, যা পানিতে অবাধে চলাচল করে; এবং লিম্পেট মাইন, যা সরাসরি জাহাজের খোলের সাথে সংযুক্ত হয়ে বিস্ফোরিত হয়। যদি মাইনের এত বৈচিত্র না থাকতো, তাহলে হরমুজ প্রণালিকে মাইনমুক্ত করতে সময় আরও কম লাগত।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অপারেশন্স বিভাগের প্রধান অ্যাডমিরাল ডেরিল কাউডলে রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “জলপথ কিংবা সাগর থেকে মাইন অপসারণ খুব সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।” মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বর্তমানে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক থিংকট্যাঙ্ক সংস্থা হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ব্রায়ান ক্লার্ক বলেছেন, “হরমুজ প্রণালিমে পুরোপুরি মাইনমুক্ত করতে সময় লাগবে কমপক্ষে দুই থেকে তিন সপ্তাহ। এর চেয়ে বেশি সময়ও লাগতে পারে।”
তবে প্রণালির কোন কোন জায়গায় মাইন পাতা হয়েছিল, তার রেকর্ড ঠিকমতো রাখেনি রেভল্যুনারি গার্ড কোর। ফলে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে হরমুজ থেকে মাইন অপসারণ করা। কারণ, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। কারণ, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় ২৫ ভাগ বা এক চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ইরান হরমুজে অবরোধ জারি করায় ব্যাপক চাপে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকে, অনেক দেশেই দেখা দেয় জ্বালানি সংকট।
সূত্র : রয়টার্স
আ ই/ এনজি






