রাত ৯:৩৯ | বৃহস্পতিবার | ২২ অক্টোবর, ২০২৬ | ৬ কার্তিক, ১৪৩৩, হেমন্তকাল | ১০ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮

৫০ কোটি টাকার প্রকল্পে বাধ্যতামূলক হচ্ছে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা

বিশেষ প্রতিবেদন

 

মাহমুদুল হাসান

২২ অক্টোবর ২০২৬

 

 

 

উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করছে সরকার। এখন থেকে ৫০ কোটি টাকা বা তার বেশি ব্যয়ের নতুন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের বিবেচনায় নেওয়ার আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এ শর্ত দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার, সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বৈদেশিক ঋণ বা অনুদানের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাস্তবায়নযোগ্য নিয়মিত কার্যক্রম এবং বেসরকারি খাতের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব—এমন প্রকল্প উন্নয়ন বাজেটের আওতায় নেওয়া যাবে না।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের ১১ অক্টোবর জারি করা এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে একই বাস্তবায়নকারী সংস্থার অধীনে একই ধরনের একাধিক ছোট প্রকল্প থাকলে সেগুলো একত্র করে একটি প্রকল্প হিসেবে গ্রহণের নির্দেশনাও রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন ও এখনো অনুমোদন না পাওয়া প্রকল্পের প্রস্তাব বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে এডিপি/আরএডিপি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে (এএমএস) জমা দিতে হবে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ৫ নভেম্বরের মধ্যে এসব প্রস্তাব যাচাই করে সংশ্লিষ্ট খাতভিত্তিক বিভাগে পাঠাবে। পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ১২ নভেম্বরের মধ্যে তাদের সুপারিশ কার্যক্রম বিভাগে জমা দেবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) এস এম শাকিল আখতার স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় পাঠানো হয়েছে। এতে বিষয়টিকে ‘অতি জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব প্রকল্পের বিপরীতে বিদেশি ঋণ বা অনুদানের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে কিংবা অর্থায়নের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেগুলোকে সংশোধিত উন্নয়ন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে প্রতিযোগিতামূলক একাধিক প্রকল্পের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণের জন্য কোনো সংখ্যাভিত্তিক মানদণ্ড বা বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখ করা হয়নি।

৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের প্রকল্পের ক্ষেত্রেও প্রকল্পের ধরন ও পরিধি অনুযায়ী সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া একই ধরনের ছোট প্রকল্প একীভূত করার মাধ্যমে উন্নয়ন ব্যয়ের খণ্ডিত প্রবণতা কমানো এবং বাস্তবায়ন ও তদারকি সহজ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য পৃথক প্রকল্প প্রস্তাব করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব বাজেটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব—এমন কার্যক্রম উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। একইভাবে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পও এ কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

নতুন প্রকল্প প্রস্তাব বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস, খাদ্যনিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সহায়ক প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০-এ চিহ্নিত প্রকল্পগুলো অন্তর্ভুক্ত ও অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে প্রকল্প গ্রহণের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসংক্রান্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে গ্রিন ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট নির্দেশিকা, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে চলমান বা গৃহীত প্রকল্পের সঙ্গে যেন নতুন প্রকল্পের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকায় বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পকে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-২০২৩ এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০১৬ অনুসরণ করতে হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের এ উদ্যোগের লক্ষ্য উন্নয়ন প্রকল্প বাছাইয়ের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করা, প্রকল্পের যৌক্তিকতা যাচাই এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা। তবে নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মান, মন্ত্রণালয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের কঠোরতা এবং চূড়ান্ত বরাদ্দের ক্ষেত্রে ঘোষিত অগ্রাধিকার কতটা প্রতিফলিত হয়, তার ওপর।

 

 

মা হা / এনজি