জেলার বিভিন্ন পালপাড়া ও কারখানায় মাটি, খড়, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে দেবী দুর্গাসহ বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। কোথাও কাঠামো নির্মাণ, মাটির কাজ, আবার কোথাও রং ও অলংকরণের প্রস্তুতি চলছে।
সরেজমিনে ঘুরে লালমনিরহাট সদরের সাধুটারী ও পালপাড়ায় রনজিৎ পাল, শ্যামল লাল পাল ও বাচ্চু পাল; আদিতমারীর ভাদাদোলা পালপাড়ায় ভুবন চন্দ্র পাল এবং কালীগঞ্জের বোর্ডেরহাট পালপাড়ায় সুধীর চন্দ্র রায় ও গণেশ পালকে দেখা গেছে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত। পাশাপাশি হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রামের রাজারহাটেও চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। আকার, নকশা ও কারুকাজ দেখে ক্রেতারা দরদাম করে প্রতিমা কিনছেন। স্থানীয় কারিগরদের তৈরি প্রতিমা যাচ্ছে আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও।
কারিগররা জানান, বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর খড় ও মাটির প্রলেপ দিয়ে প্রতিমা তৈরির পর মসৃণকরণ, রং ও অলংকরণের কাজ করা হয়।
প্রতিমা শিল্পী দীপক কুমার রায় বলেন, তাদের তৈরি প্রতিমা লালমনিরহাট ছাড়াও রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও সে অনুযায়ী প্রতিমার দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবু বংশপরম্পরার এ শিল্প ধরে রাখতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
কারিগর অলকা রানী রায় বলেন, দুর্গাপূজার মৌসুমে কাজের চাপ বাড়লেও বছরের অন্য সময়ে কাজ কম থাকায় আয়ও কমে যায়। সারাবছর কাজের সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোর জীবিকা আরও স্থিতিশীল হবে।
প্রতিমা শিল্পী গণেশ পাল বলেন, প্রতিমার আকার ও নকশা অনুযায়ী কাজ শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং পারিশ্রমিকও ভিন্ন হয়। একজন কারিগর সাধারণত পাঁচ-ছয়টি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ করেন। মাটি, বাঁশ ও খড়ের পাশাপাশি প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে শিল্পীর দক্ষতা ও সৃজনশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ।
লালমনিরহাট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় বলেন, এ বছর জেলায় ৪৭৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপ রয়েছে।
বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গা মন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা আশাবাদী।
জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, পূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।
টি আই/ এনজি ডেস্ক






