রাত ১২:১৮ | বৃহস্পতিবার | ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১৯ ভাদ্র, ১৪৩৩, শরৎকাল | ২০ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮

আসিফ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান : ১৮৮ যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি-বদলি বাণিজ্যে ৪ কোটি টাকা লেনদেন!

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের শত শত কর্মকর্তার পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর কমিশন থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুসন্ধানে চার সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠিত হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম আরও বলেন, অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা চলতি দায়িত্ব বাতিল ও নতুন পদে পদায়নের আদেশ দিয়ে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি দেওয়ার নাম করে আদায় করা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং তাদের পছন্দের স্থানে পদায়নের জন্য সংগৃহীত হয়েছে লেনদেন হয়েছে আরও ২ কোটি টাকা। এসব অভিযোগ নথিপত্র যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবে দুদক।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। কেবল বদলি-পদোন্নতি বাণিজ্যই নয়, যুব উন্নয়নের সকল ধরনের কেনাকাটা ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অভিযুক্তরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। অভিযোগে ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তা ছাড়াও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমীর (ঢাকা), আনিচ, জাহিদ, ইব্রাহিম (বগুড়া), জুলহাস (বরিশাল), নাকিমউদ্দিন, আলী হোসেন, আবু সাঈদ (পাবনা), কোরবান আলী (ধামরাই, ঢাকা) এবং আলী হোসেনসহ (নরসিংদী) মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট পরিচালিত হত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধান টিম নথিপত্র সংগ্রহ করতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুততি নিচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণের জন্য দুদকে তলব করবে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে ঢাকা পোস্টের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠ একজন ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হতে পারে।

এদিকে আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে (সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিট) দুদকের প্রতি দুর্নীতির প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ‘১৮৮ জন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা করে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার দুর্নীতি করেছেন একজন উপদেষ্টা, একজন সচিব, একজন যুগ্মসচিব এবং একজন উপসচিব সহ আরো অনেকে মিলে।’ দুদক বলছে, প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রমাণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করুন প্লিজ।

এ বিষয়ে রাতে বিস্তারিত কথা বলবেন বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।

জা ই / এনজি