রাত ১২:৪৯ | বুধবার | ২৪ জুন, ২০২৬ | ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩, বর্ষাকাল | ৮ মহর্‌রম, ১৪৪৮

সংসদে স্পিকারের কড়া নির্দেশনা :  অধিবেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ নেই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার শুরুতে স্পিকার, চিফ হুইপ, জনপ্রশাসন মন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের মধ্যকার আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে।

অধিবেশনের শুরুতে রাজশাহী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান এক নোটিশে জানান, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে অন্য সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের নাম ও যোগাযোগ নম্বর পাওয়া খুবই জরুরি। সাধারণত শপথ নেওয়ার দুই-এক মাসের মধ্যেই এই ক্যাটালগ বই প্রকাশ করা হলেও এবার চার মাস পার হলেও তা পাওয়া যায়নি।

এই প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর সঠিক যোগাযোগ নম্বর না থাকার কারণে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক কাজে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডায়েরি বা ডাইরেক্টরি তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন নম্বরসংবলিত একটি সম্মিলিত ডাইরেক্টরি সংসদ সদস্যদের সুবিধার জন্য দ্রুত প্রস্তুত করা হবে।

এরপর পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রবীণ রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ও সংসদ সদস্য হিসেবে তার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ঋণখেলাপি মামলায় থাকা অন্য দুজন সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের অবস্থান এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু ও গুজব প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেন। তবে চিফ হুইপ এর বিরোধিতা করে বলেন, এসব অপ্রাসঙ্গিক ও বাইরের বিষয় নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন।

স্পিকারও চিফ হুইপের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে জানান, মির্জা আব্বাস চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে তার অবস্থা ক্রমাগত ভালো হচ্ছে এবং সুস্থ হলে তিনি সংসদে আসবেন। গুজব বা আদালতে চলমান মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সংসদ সময় নষ্ট করতে পারে না উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, কোনো সদস্যের সদস্যপদ পদচ্যুত হলে তা যথাসময়ে সংসদকে জানানো হবে।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে কার্যক্রমে সবার অংশগ্রহণ চাঙ্গা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাজেট অধিবেশন চলাকালীন সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, বিশেষ করে যাদের মন্ত্রণালয় নিয়ে সদস্যরা এলাকার দাবি-দাওয়া বা অভিযোগ তুলে ধরেন, তারা উপস্থিত থাকেন না। একই সঙ্গে সংসদ চলাকালীন অধিবেশন কক্ষের ভেতরেই চার-পাঁচজন মিলে ছোট ছোট গ্রুপে আলাদা বৈঠক বা আলোচনার কারণে সংসদের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নষ্ট হয় বলে তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতার এই প্রশ্নের জবাবে স্পিকার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অধিবেশন কক্ষের ভেতরে ছোট ছোট গ্রুপে আলোচনা করা এবং ফ্লোর ক্রসিং বন্ধের কড়া নির্দেশনা দেন। সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

 

 

জা ই/ এনজি