জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১০ জুন ২০২৬
দেশের বৃহত্তম ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান অস্থিরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্য কয়েকটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি)। তাদের মতে, এ পরিস্থিতি আমানতকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্যও উদ্বেগের বিষয়। একইসঙ্গে ব্যাংকটিকে ঘিরে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিষয়টির রাজনৈতিকীকরণ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতে, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি এখন আর কেবল ব্যাংকিং খাতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি রাজনৈতিক মাত্রাও পেয়েছে। ফলে বিষয়টিকে এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা হচ্ছে।
বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যাংকার্স সভায় এই উদ্বেগের কথা জানান সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংকার্স সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এতে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা (সিইও) উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে দেশের শীর্ষ ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)–এর চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যা নিয়ে ব্যাংকাররা খুবই উদ্বেগে আছেন। গভর্নর ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতিকে এখন কেবল ব্যাংকিং খাতের বিষয় হিসেবে নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন।
এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন গভর্নর। তিনি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)–তে সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে ব্যাংকিং খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট গ্রোথ বা ঋণের প্রবাহ বাড়াতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্যাকেজ নিয়ে আসছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য নতুন প্যাকেজ থেকে ঋণ পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় এই অর্থ বিতরণ করা হবে।
মাসরুর আরেফিন বলেন, গভর্নর জানিয়েছেন, রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে পাঠানো তথ্যে অনেক ভুল থাকে বা বিলম্বে দেওয়া হয়, যা রাষ্ট্রীয় হিসাব-নিকাশে সমস্যা তৈরি করে। বিশেষ করে আমদানি করা পণ্য দামের ক্ষেত্রে অনেক তারতম্য দেখা যাচ্ছে।
বর্তমানে বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দাম যাচাই করে এলসি বা বাণিজ্যে যাওয়ার বিষয়ে জোর দিয়েছে, যাতে অকারণে বেশি দাম দিয়ে দেশের ক্ষতি না হয়।
টি আই / এনজি






