সকাল ৬:৩৮ | শুক্রবার | ১৯ জুন, ২০২৬ | ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩, বর্ষাকাল | ৩ মহর্‌রম, ১৪৪৮

সাধারণ মানুষের আশার প্রতিফলন বর্তমান সরকার —প্রধানমন্ত্রী : উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ এপ্রিল ২০২৬

 

রাজধানী ঢাকার সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।  শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের এমন জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে, যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎসাহের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করে দেবে সরকার। পাশাপাশি নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে তাদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়।

এছাড়াও বৈঠকে স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু ও শেষের সময় সড়কে যানজট কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব মাঠের একটি অংশ গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর-১ এলাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও গুলিস্তানসহ কয়েকটি এলাকার সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদ করা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার ও ডিআইজি (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বিয়াম ট্রেনিং ভবনের উদ্ভোধন : এদিকে  সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমেটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশের জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক এবং জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আশার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার।

এ সময় জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে এই রাষ্ট্রের মালিক এই দেশের জনগণ। তাই জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা আপনাদের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি বিয়ামের অন্যতম একটি লক্ষ্য। বিশেষ করে সরকারি কর্মে নিয়োজিত মানব সম্পদকে আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারে সক্ষম করে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার মেধা নির্ভর, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও দায়িত্ববান মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আপনারা যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন কি না কিংবা পালন করতে সক্ষম হয়েছিলেন কি না এই মুহূর্তে সেই প্রশ্ন না তুলে আমি আপনাদের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে একটি বার্তা দিতে চাই। দেশ এবং জনগণের কাছে আমাদের যেই প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়ে এসেছি সেসব কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয় বরং জনগণের সঙ্গে করা আমাদের চুক্তি। জনগণ আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সুতরাং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে। সুতরাং বৈশ্বিক প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে হলে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকেও নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, বিয়ামের মহাপরিচালক আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী : বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট-বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অডিটরিয়াম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি পাশে স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে যান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতেই পাশে অবস্থিত বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাতে থাকে। বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি নিজেও তাদের হাত নেড়ে সাড়া দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী বিয়াম মিলনায়তনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠান পর্ব শেষ করে বেরিয়ে যেতেই প্রধানমন্ত্রী ছুটে যান সেই স্কুলে। ঘুরে দেখেন তিনটি শ্রেণিকক্ষ। সেখানে কিছুক্ষণ শিশুদের সঙ্গে খুনসুটিতে মাতেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শিশুরাও মেতে ওঠে আনন্দে। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলায়। কেউ আবার অটোগ্রাফ নেয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ মেলবন্ধন দেখে শিক্ষকরাও আবেগ প্রবণ হয়ে পড়েন। পরে স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে স্কুলে প্রবেশ করে প্রায় ১৫ মিনিট প্রধানমন্ত্রী সেখানে অবস্থান করেন।

গো-কার্ট চালান প্রধানমন্ত্রী : কলেজ শিক্ষার্থী রিজয়ান রশিদের নির্মিত গো-কার্ট (রেসিং কার) চালিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় প্রাঙ্গনে গো-কার্টটি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী রিজয়ান রশিদের তৈরি করা গো-কার্ট পরিদর্শন করেন। এক পর্যায়ে তিনি রিজয়ান রশীদকে এরকম উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ দিতে নিজেই কারটি চালিয়ে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী দেশীয় প্রযুক্তিতে গো-কার্ট (রেসিং কার) তৈরি করা তরুণকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং তার প্রশংসা করে ভবিষ্যতে আরও আধুনিক সংস্করণ তৈরিতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন রিজওয়ান রশিদ। সেখানে নিজের তৈরি গোকার্টটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন তিনি। আগ্রহভরে নতুন এই যানটি পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীকে গোট-কার্ট তৈরির গল্প শোনান রিজওয়ান রশিদ।

 

 

জা ই / এনজি