নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ এপ্রিল ২০২৬
সংসদে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য না দিয়ে গঠনমূলক বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারদলীয় সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য একথা জানান।
একাধিক সদস্য জানান,
সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ সভায় চলতি অধিবেশনের ১৩৩ অধ্যাদেশ, বিভিন্ন বিল, বিভিন্ন বিধি ও রাষ্ট্রপ্রতির ভাষনের আলোচনায় কেউ কাউকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দান থেকে বিরত থাকলে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশেষ করে যার যতটুকু বক্তব্য কিংবা পয়েন্ট উত্থাপন করা প্রয়োজন তিনি তত টুকুই দেবেন। অতিরিক্ত বক্তব্য কিংবা মন্তব্য করা যাবে না। এমন কি সংসদে কোনো অসত্য তথ্য উত্থাপন করা যাবে না। কারণ অসত্য তথ্য উত্থাপন করলে অন্য কেউ কথা বলার সুযোগ তৈরি হবে।
সভা সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেখানে তিনি বিরোধী দলে কোনো মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদস্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন। তার এ বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, আমার জানামতে বিরোধী দলে মুক্তিযোদ্ধা নেই তথ্যটি সঠিক নয়। এসময় তিনি জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা বলে মন্তব্য করেছেন। জানা গেছে, বিএনপির সভায় কেউ কেউ এ বিষয়ে বলেছেন, এ ধরণের বক্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। পরে সংসদ নেতা সবাইকে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন নি করতে নির্দেশনা দেন।
এছাড়াও সভায় সুপ্রিম কোট সচিবালয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন,গুম প্রতিরোধসহ ৬টি অধ্যাদেশ ওপর আলোচনা করা হয়। এই অধ্যাদেশগুলো এখন পাস না হলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন বা সংযোজন বিয়োজন করে সংসদ বিল আকারে উত্থাপন করা হতে পারে বলেও জানা গেছে। এসব অধ্যাদেশ সম্পর্কে বক্তব্য, বিবৃতি, নোটিশ দিতে সর্তক থাকতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন সংসদনেতা।
এদিকে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদেরকে সঠিক সময়ে সংসদে উপস্থিত থাকা। আক্রমনাত্মক কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে বক্তব্য না দেওয়া, তথাভিত্তিক বক্তব্য রাখতেও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার দলীয় একাধিক সংসদ সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী সভায় আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। সভায় কারো নাম উল্লেখ না করে তিনি সংসদে অসত্য তথ্য উত্থাপন না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। কোনো আক্রমনাত্মক বক্তব্য না দিয়ে গঠকমূলক বক্তব্য দিতে বলেছেন। এছাড়া যে যে বিষয়ে দায়িত্বশীল তাকেই সে বিষয়ে কথা বলতে হবে।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নয়াদিগন্তকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।
তিনি বলেন, সংসদে বিলগুলো পাশের ক্ষেত্রে সবার ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে এবং সবাই যেন যথা সময়ে সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত থাকেন গুরুত্বারূপ করেন।
জা ই/ এনজি






