রাত ৩:১৪ | শুক্রবার | ১৯ জুন, ২০২৬ | ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩, বর্ষাকাল | ৩ মহর্‌রম, ১৪৪৮

স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী : প্রত্যাশিত স্বনির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশোধ প্রতিহিংসা আর অযথা বিতর্ক নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ এপ্রিল ২০২৬

 

 

প্রত্যাশিত স্বনির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশোধ প্রতিহিংসা কিংবা আর অযথা বিতর্ক পরিহারের আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। আমাদের মত পথ ভিন্ন হতে পারে, আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক বিরোধ থাকতে পারে। তবে আমাদের মধ্যকার বিতর্ক বিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, দেশের স্বার্থে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী চক্র কিন্তু এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চলতি বছর জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ (মরণোত্তর) ১৫ জন বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সন্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ পেয়েছেন। একই সঙ্গে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানও পেয়েছে এই পুরস্কার। গতকাল বিকালে এ বছর পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর আগে দুপুর ৩টা ৫৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্হলে এসে পৌঁছান, ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সবাই দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআান থেকে তেলোয়াত করেন হাফিজ কারী হাবিবুর রহমান। এরপর একে একে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরণোত্তর পুরস্কারটি গ্রহন করেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তিনি ‘দাদু’র পদক গ্রহন করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে’ সার্বিক অবদানের জন্য।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান এবং খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

গত ৫ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চলতি বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে’ সার্বিক অবদানের জন্য। খালেদা জিয়াসহ মরণোত্তর এই সন্মাননা পেয়েছেন সাতজন। এরা হলেন, মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজ সেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান।

মেজর জলিলের পক্ষে তার কণ্যা ব্যারিস্টার সারা জলিল , ড. আশরাফ সিদ্দিকীর পক্ষে তার মেয়ে ড. তাসনিম আরিফা সিদ্দিকৗ ,জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে তার ছেলে বারীশ হাসান চৌধুরী, মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে তার স্বামী মনসুর হেলাল, বশির আহমেদের পক্ষে তার হুমায়ারা বশির এবং কাজী ফজলুর রহমানের পক্ষে তার কন্যা তাবাসুম শাহনাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে থেকে পুরস্কার গ্রহন করেন।
বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজ সেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার নেন। অধ্যাপক জহুরুল করিমের পক্ষে তার পুত্র হারুনুর রশীদ এবং একেএম হানিফ, জোবেরা রহমান, সাইদুল হক, মোহাম্মদ আবদুল বাকী, এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, আবদুল মুকিত মজমুদার প্রত্যেকে নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নেন।
এবছর যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত করা হয়েছে তা হলো, মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসা বিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে।

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্ণেল আদনান কবির, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, এসওএস শিশু পল্লীর ন্যাশনাল ডাইরেক্টর ড .এনামুল হক এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র প্যারামেডিক বিউটি রানী সাহা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেন।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আঠারো ক্যারেটের ৫০ গ্রামের একটি স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, তিন লাখ টাকা ও একটা সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সবক্ষেত্রে মিত্যব্যয়ী হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থির মধ্যেও আমরা সব কিছু স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। বিশ্বের সকল দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও আমরা জনদুর্ভোগে বর্তমান সরকার দাম বাড়ায়নি। এই খাতে প্রতিদিন শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে । জনগণের সুবিধা নিশ্চিত রাখতে সরকার সম্ভাব্য সকল প্রকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কারণ, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার। আমি আস্বস্ত করতে চাই, জনগণের বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। তবে রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাহুল্যের বর্জন, এমনকি পারিবারিক পর্যায়েও অমিতব্যয়িতা পরিহার করার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। সেই বাংলাদেশটি এখন ৫৫ বছর পার করে ফেলেছে। এতো বছরে আমাদের যেমন অনেক প্রাপ্তি রয়েছে অপ্রাপ্তিও কম নয়। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশিত স্বনির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিশোধ প্রতিহিংসা কিংবা আর অযথা বিতর্ক নয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলতেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা’ৃ সেই কথা স্মরণ রেখেই বলতে চাই,আমাদের মত পথ ভিন্ন হতে পারে, আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক বিরোধ থাকতে পারে তবে আমাদের মধ্যকার বিতর্ক বিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয় দেশের স্বার্থে সে ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী চক্র কিন্তু এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের ভোটে দেশের দায়িত্বভার গ্রহনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃংখলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, দেশের বর্তমানে এক বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। কর্মক্ষম এই জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরী করাই এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু অর্থনীতিই নয়, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে এসেছিলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইন্টেরিম সরকারের সময়েও শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরেনি দুঃখজনকভাবে । বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং কর্মমুখী করতেই হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার কাজটিও আমরা ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি। দেশে অর্ধেকের বেশি নারী।নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগই সহজে সফল হবেনা। এভাবে প্রতি সেক্টরকে চিহ্নিত করে সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের রায়ে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার আগেই আমরা বিস্তারিতভাবে দেশের জনগণের সামনে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছিলাম। রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা প্রকাশ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য স্বাক্ষর করেছিলাম। জনগণ আমাদের প্রতিটি অঙ্গীকারের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। এবার আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পালা।আমরা ইতোমধ্যেই জনগণের সামনে দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।আমরা দলীয় ইশতেহার এবং স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা প্রতি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। আমি বিশ্বাস করি ব্যাক্তিগতভাবে। পুঁথিগত পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন বেশি জরুরি। বিএনপি সরকার যতবার রাষ্ট্র পরিচালনা সুযোগ পেয়েছে বারবার এর প্রমান দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে দ্বিধাচিত্ত থাকা হীনমন্যতার পরিচায়ক।

এবারের স্বাধীনতা পুরস্কারের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক এবং ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে অসামান্য অবদানের জন্য আমার মরহুমা মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ বছর মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন। স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত সকল গুণীজন এবং প্রতিষ্ঠানকে আমি আমার নিজের এবং দেশ ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং মোবারকবাদ জানাই। দেশ এবং জনগণের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপনাদের এই অবিস্মরণীয় অবদান বাংলাদেশকে করবার সমৃদ্ধ । আজ এবং আগামীর বাংলাদেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আপনাদের এইসব অবদান প্রেরণার উৎস্য হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে স্ব স্ব ক্ষেত্রে আপনাদের অবদান এবং সফল কর্মগুলো অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব দরবারেও সমাদৃত হবে বলেও আমি প্রত্যাশা করি ।

আজ যারা স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হলেন…আপনারা জাতির গৌরব। আপনাদের মতো সফল মানুষেরা আগামী প্রজন্মের সামনে দৃ‘ষ্টান্ত হয়ে উঠুন এই প্রত্যাশায় আপনাদেরকে আরো একবার ধন্যবাদ জানাই। যারা মরণোত্তর পুরস্কার পেয়েছেন আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।

জাতীয় নেতাদের স্মরণে কার্পন্য নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবজনক রাষ্ট্রীয় সম্মান। স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা দেশ এবং জনগণের জন্য স্মরণীয় অবদান রেখেছেন কিংবা রাখবেন তাদেরকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রবর্তন করেছিলেন। আজকের এই অনুষ্ঠানে আমি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সকল জাতীয় নেতার ভূমিকা এবং অবদানকে শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় স্মরণ করছি।আমরা যদি হীন দলীয় স্বার্থে যদি আমাদের ইতিহাসের জাতীয় নেতাদের ভূমিকাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে কার্পণ্য করি তাহলে ভবিষ্যতের ইতিহাস আমাদেরকে ক্ষমা করবেনা। আমি বিশ্বাস করি, ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে দ্বিধাচিত্ত থাকা হীনমন্যতার পরিচায়ক।
অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার পদক প্রাপ্ত জোবেরা রহমান, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া ও পল্লৗ কর্মসংস্থাক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন।

 

জা ই /এনজি