রাত ৯:০২ | শুক্রবার | ২৪ জুলাই, ২০২৬ | ৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩, বর্ষাকাল | ৯ সফর, ১৪৪৮

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর যা দেখা গেছে বঙ্গভবনের সামনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের ঘোষণার পর রাজধানীর বঙ্গভবনের সামনে বিপুলসংখ্যক সংবাদকর্মী ও উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা গেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত বঙ্গভবনের প্রবেশমুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাড়াবাড়ি নেই।

তবে সাংবাদিকদের কাউকেই বঙ্গভবনের সামনের চত্বরের উত্তর পাশে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। তারা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ভবনের দক্ষিণ পাশের গেটের কাছে অবস্থান নেন। বঙ্গভবনের প্রবেশপথে কাঁটাতারের ব্যারিকেড বসানো রয়েছে। প্রবেশের জন্য পূর্ব পাশে ছোট একটি পথ খোলা রাখা হয়েছে।

বাইরে সাংবাদিক, উৎসুক মানুষ ও যানবাহনের চাপ থাকলেও বঙ্গভবনের ভেতরের সামনের চত্বর ছিল একেবারেই নিস্তরঙ্গ। দীর্ঘ সময় পরপর দু-একটি গাড়ি বের হতে এবং প্রবেশ করতে দেখা যায়।

বঙ্গভবনের সামনে তিনটি সড়কের সংযোগস্থলে যানবাহনের চাপও বেড়ে যায়। জিপিও মোড় থেকে আসা গাড়িগুলো বঙ্গভবনের সামনে থেকেই মোড় ঘুরে ফ্লাইওভারে উঠছে। অন্যদিকে দৈনিক বাংলা মোড় থেকে আসা যানবাহনগুলো বঙ্গভবনের সামনের সড়ক দিয়ে গুলিস্তানের দিকে যাচ্ছে। দুই দিকের যানবাহনের চাপ একসঙ্গে পড়ায় মোড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খেতে দেখা যায়।

এ সময় সেখানে উপস্থিত অনেকের মধ্যে রাষ্ট্রপতি আদৌ বঙ্গভবনের ভেতরে আছেন কি না, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। কেউ বলছিলেন, তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) আছেন। তবে তিনি বঙ্গভবনে অবস্থান করছেন কি না বা সেখান থেকে বের হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে শুক্রবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদে সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, গুরুতর অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হওয়ায় পদত্যাগ করেছেন। একই দিন তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন তিনি। সম্প্রতি তার শরীরে অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।

দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয় বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যেও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে বহাল ছিলেন। সে সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন তাঁর অপসারণের দাবি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করলেও অন্তর্বর্তী সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পরও তিনি দায়িত্বে বহাল থাকেন, যদিও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল।

 

 

জা ই / এনজি