ঈদের আনন্দঘন মুহূর্তেও দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়কে ঝরেছে অন্তত ১৬ প্রাণ। কেউ পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি ফিরছিলেন, কেউ ঈদ উদযাপন করতে বের হয়েছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে আবার কেউ বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। সবাই কোনো না কোনোভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
গোপালগঞ্জে নিহত ৫
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করবেন বলে ঢাকা থেকে বাসে করে রওনা হয়েছিলেন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কোলারদোনিয়া গ্রামের সোহাগ (৪০)। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উপজেলার বেদগ্রাম স্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জনসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। এ সময় প্রাণ হারান সোহাগ, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী খাদিজা বেগম ও ছয় বছরের ছেলে আহমদ আলী।
পটুয়াখালীতে নিহত ২
ঈদের আনন্দঘন মুহূর্ত যেন মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে পটুয়াখালীর গলাচিপায়। মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন মোহাম্মদ আল ফয়সাল (২২) ও তামিম ইকবাল (১৬) নামে দুই তরুণ।
নিহত তামিম ইকবাল গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি গলাচিপা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামলীবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. ঝিলাম মিয়ার ছেলে। অপরদিকে নিহত আল ফয়সাল তামিরুল মিল্লাত মাদরাসার ঢাকার টঙ্গী শাখার এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি একই এলাকার ব্যবসায়ী আবুল হোসেন (আবু) মিয়ার ছেলে।
দিনাজপুরে ২ শিশু নিহত
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে মায়ের সঙ্গে ঈদের দিন সকালে বাড়ি ফেরার পথে আব্দুল্লাহ (৪) ও আরিফা (৪) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুই শিশুর মা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার কানাগাড়ি বাজার এলাকায় দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো- জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার শামসুল হকের ছেলে আব্দুল্লাহ (৪) ও দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বাড়ো আরিয়া এলাকার আল আমিনের মেয়ে আরিফা (৪)।
নড়াইল, গাইবান্ধা ও মাদারীপুরে একজন করে নিহত
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক সাব্বির গাজী (১৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী শওকত হোসেন (১৯) নামে আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার আলমুন্সির মোড় নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায়।
নিহত মোটরসাইকেল চালক সাব্বির গাজী যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের বাবুল গাজীর ছেলে ও আহত শওকত হোসেন একই গ্রামের রিপন গাজীর ছেলে।
এদিকে গাইবান্ধায় সুন্দরগঞ্জে ঈদের দিনে প্রাণ হারালেন এক নারী। বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের মওলানা ভাসানী সেতুর উত্তরপ্রান্তে শহরের মোড় নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
৪৫ বছর বয়সী ও নারীর নাম মালেকা বেগম। নিহত মালেকা বেগম উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গারচর গ্রামের পশু চিকিৎসক মনছুর আলীর স্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক জুলিয়াস রহমান।
এছাড়া মাদারীপুরের শিবচরের বাস থেকে ছিটকে পড়ে সাত্তার হাওলাদার (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতুসংলগ্ন সীমানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাত্তার হাওলাদারের বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুরে।
ফরিদপুরে নিহত ২
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলের দুই আরোহী।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদি ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই ব্যক্তি হলেন, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার গঙ্গাদরদী এলাকার কাঞ্চন মোল্লার ছেলে সাইফুল মোল্লা (২৫) এবং বরিশাল সদর উপজেলার রূপাতলী হাউজিং এলাকার জিয়ানগর মহল্লার জাহাঙ্গীর শরীফের ছেলে আল ইমরান শরীফ (২৮)।
নরসিংদী রেলস্টেশনে নিহত ২
ঈদের নতুন জামা কিনে আর বাড়ি ফেরার পথে নিহত হয় ১৮ মাস বয়সী শিশু সাফওয়ান হাসেন এবং তার মা। ঈদযাত্রায় বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান মা-ছেলে।
বুধবার সন্ধ্যায় নরসিংদী রেলস্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী সাথী বেগম (২৭) এবং তাদের ১৮ মাস বয়সী ছেলে সাফওয়ান হাসেন।
ফেরার পথে নরসিংদী রেলস্টেশনের প্লাটফর্ম অতিক্রম করার সময় দ্রুতগতির কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলে গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
আশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সুজন মিয়া বলেন, আমার চোখের সামনে আমার অবুঝ শিশু সন্তান আর স্ত্রীকে হারালাম। আগামী ঈদ আমি কী নিয়ে থাকব? ট্রেন আসতে দেখে আমি অনেক চিৎকার করেছি, আটকানোরও চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুই করতে পারিনি।
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ জানায়, স্টেশনের এক নম্বর লাইনে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দ্রুতগতির কক্সবাজার এক্সপ্রেস স্টেশন অতিক্রম করছিল। ওই পরিবারটি রেললাইন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়।
জা ই/ এনজি






