জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মেহেরুন নেসার বাবা মোশারফ হোসাইন বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ নতুনভাবে চলবে, কোনো স্বৈরাচারী কায়দায় চলবে না। যদি শহীদদের দাবি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে ১১-দলীয় জোটের ডাকে মানুষ আবাবিল পাখির মতো রাজপথে নেমে আসবে।
মোশারফ হোসাইন বলেন, গতরাতেও আমি আমার মেয়ের জন্য কেঁদেছি। আমরা কী হারিয়েছি, তা শুধু আমরাই বুঝি। আন্দোলনে যাদের চোখ নেই, হাত নেই কিংবা পা নেই—তাদের দিকে তাকাতে পারি না। তারেক রহমান, আপনি জটিলতা তৈরি করবেন না। আপনি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের যে ওয়াদা করেছেন, তা অবিলম্বে পূরণ করুন। আপনার মাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে আপনার মায়ের জানাজা তো দূরের কথা, দেশে কবরও দিতে দিত না। আপনার বাবার কবরও হয়ত রক্ষা পেত না। আজ আমাদের সন্তানদের আত্মত্যাগের কারণেই আপনারা দেশে আসতে পেরেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের আত্মত্যাগকে খাটো করে দেখবেন না। আপনাকে ভালোবাসি বলেই বলছি, দেশটা ভালোভাবে চালান। স্বৈরাচারী হাসিনার মতো হওয়ার চেষ্টা করবেন না। আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। আমরা অনেক কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি। একবার রাজপথে নামলে আমরা কয়জন মরব তা ভাবব না, কিন্তু আপনারা পালানোর জায়গা পাবেন না। তাই অবিলম্বে জুলাই সনদ ও গণভোটের দাবি বাস্তবায়ন করুন। নতুন বাংলাদেশ সুন্দরভাবে গড়ে তোলাই আপনাদের প্রতি আমাদের শহীদ পরিবারগুলোর দাবি।
জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ীতে হাত হারানো তুহিন ফরাজি বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোটও হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার গণমানুষের এ রায়কে উপেক্ষা করার চেষ্টা করছে। সরকারকে বলবো গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। প্রধানমন্ত্রী আপনি নিজেই তো গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে বলেছিলেন তাহলে কেন আপনি এটা বাস্তবায়নের জন্য গড়িমসি করছেন।
জা ই/ এনজি





