নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাংক আমানত থেকে সুদ আয় কমে যাওয়ায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ। মূলত আমানতের সুদ আয় ৪৫ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় মুনাফায় এই ধস নেমেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
যমুনা অয়েলের আয়ের একটি বড় অংশ আসে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা আমানতের সুদ থেকে, যা তাদের মূল ব্যবসা অর্থাৎ পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রি থেকে অর্জিত আয়ের চেয়েও বেশি।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে রাখা আমানতের বিপরীতে অর্জিত সুদ আয় এবার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মূলত এই কারণেই মোট আয় ও নিট মুনাফায় বড় পতন ঘটেছে।
মুনাফা কমায় শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসও কমেছে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ইপিএস হয়েছে ১৯ টাকা ৬৩ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৩ টাকা ৯২ পয়সা। তবে গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯১ টাকা ৬৭ পয়সায়।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে যমুনা অয়েল বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওই বছরে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৫৮ টাকা ৭০ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ৪০ টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৫০ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১১০ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিপরীতে রিজার্ভের পরিমাণ ২ হাজার ৪৫৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৬০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশই রয়েছে সরকারের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩০ দশমিক শূন্য ১, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ৩১ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
টি আই / এনজি






