বিকাল ৫:৫৩ | বৃহস্পতিবার | ১৬ জুলাই, ২০২৬ | ১ শ্রাবণ, ১৪৩৩, বর্ষাকাল | ১ সফর, ১৪৪৮

ম্যারাডোনাকে জয় উৎসর্গ করে যা বলছেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক

আরেকটি রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। যেখানে মিলে গেছে একটি সুর, ছিয়াশি থেকে ছাব্বিশ– দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা থেকে আলবিসেলেস্তেদের ঝাণ্ডা এখন লিওনেল মেসির হাতে। গোল না পেলেও তিনি জয়সূচক দুটি গোলেই অবদান রেখেছেন। ইংলিশদের সঙ্গে ফুটবল দ্বৈরথেও যার নামটি সবচেয়ে বেশি মাত্রায় জড়িয়ে, সেই ম্যারাডোনাকেই জয় উৎসর্গ করলেন বর্তমান মহাতারকা।

dhakapost

টিওয়াইসি’র সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি খেলা শেষে ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দেন। এ সময় আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় মেসি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ওপর থেকে দিয়েগো এটা দারুণভাবে উপভোগ করছে। কারণ আজকের দিনটা তার জন্য খুবই বিশেষ ছিল। তাকে এই আনন্দটা দিতে পেরে ভালো লাগছে। ওপর থেকে যেভাবেই দেখুক, উপভোগ করুক। এটাও ওর জন্য একটা উপহার।’

১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচেই মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে ম্যারাডোনা নিজেকে কিংবদন্তির আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে তিনি পিটার শিলটনের আগেই হাতে বল ছুঁয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। যা পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ইতিহাসে অমর হয়ে যায়। এরপর খানিক বাদেই একের পর এক ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে, যেন ‘মহাজাগতিক ঘুড়ি’র মতো ছুটে গিয়ে করেন দ্বিতীয় গোল। সৌন্দর্য ও প্রতীকী গুরুত্ব– দুই দিক থেকেই অনেকের কাছে সেটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ গোল।

মেসি বলেন, ‘জাতীয় সংগীতের সময় বিশেষ কিছু ঘটেছিল। দর্শকদের গুঞ্জন ধীরে ধীরে জোরালো হয়ে ওঠে। তারা অন্যরকম আবেগ নিয়ে গান গাইছিল, আর আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে সেটা অনুভব করছিলাম। জানতাম এটা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু কখনও কখনও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। আমরা সেই অনুভূতি নিয়েই ম্যাচটি খেলেছি।’

এই ম্যাচে আরও কয়েকটি রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন মেসি। আগামী রোববার দিবাগত রাতে নিউজার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে তিনি খেলবেন নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা তাকে ব্রাজিল কিংবদন্তি কাফুর রেকর্ডের সমতায় নিয়ে যাবে। একইসঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে কিলিয়ান এমবাপের ওপর নিজের ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে তার সামনে। পাশাপাশি লক্ষ্য থাকবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নিজের অনন্য অর্জনের ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মুখে এখন একটি গান সবচেয়ে বেশি শোনা যায়, ‘ফকল্যান্ডসের জন্য, দিয়েগোর জন্য, আর লিওর শেষ গোলের (বিশ্বকাপ) জন্য।’ আটলান্টার এই মহাকাব্যিক বিকেলে প্রথম দুটি পূরণ হয়েছে। শেষটি পূরণ হবে কি না, তার উত্তর মিলবে আগামী রোববারের ফাইনালে।

 

 

কা হি/ এনজি