আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শনিবার (১৮ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, গত মাসের সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অকার্যকর’।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ‘মহা শয়তান’ কর্তৃক বারবার চুক্তিভঙ্গ আবারও সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এখন সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অকার্যকর। চাপ, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা আমেরিকান আদর্শ ও মতবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে সেতু, রেললাইন ও পানি পরিশোধনকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ইরানের ওপর হামলা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়েছে। এর জবাবে তেহরান কুয়েতের বেসামরিক অবকাঠামোতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। এর প্রভাবে দেশটির কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে ইসলামাবাদ চুক্তির পরও ইরানে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলায় ইরানের মিনাবের একটি স্কুলকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের পরমাণু প্রকল্পও লক্ষ্যবস্তু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, তারা ইরানে টানা সাত রাত ধরে অভিযান পরিচালনা করছে। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাসে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে আজ এ অভিযান অষ্টম দিনে গড়িয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন বাহিনী যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে।
শুক্রবার রাতের হামলার পর তাৎক্ষণিক এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরান নিজেকে শুধু পাল্টা হামলার মধ্যেই সীমিত রাখবে না; পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে নামবে। সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই সুরক্ষিত থাকবে না।’
সূত্র: আল জাজিরা
আ ই / এনজি






