রাত ৯:১৯ | শুক্রবার | ২৪ জুলাই, ২০২৬ | ৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩, বর্ষাকাল | ৯ সফর, ১৪৪৮

বিরোধীদলীয় নেতা : দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, তিনি কী কারণে পদত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। কারণ আমরা আগেই বিবেচনায় নিয়েছি যে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। এবং আশ্বস্ত তাকে করছি, তিনি যতদিন দায়িত্ব পালন করবেন, আমরা আশা করি ন্যায়নিষ্ঠ, নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। কারো প্রতি কোনো পক্ষপাতিত্ব করবেন না এবং রাষ্ট্রপতির মর্যাদা রক্ষা করবেন। একদিনের জন্যও যদি তিনি দায়িত্ব পালন করেন, তবুও আমরা চাই তিনি একইভাবে দায়িত্ব পালন করুন। তিনি যদি এভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আমরা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। যেহেতু এর মধ্যেই সংসদের অধিবেশন হওয়ার কথা রয়েছে, তাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করি। সময় এলে আমাদের ভূমিকা কী হবে, তা আপনারা দেখতে পাবেন। বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাক, এটাই সবার প্রত্যাশা। সংবিধান অনুযায়ী তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হওয়ায় ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই এ সাংবিধানিক দায়িত্বের বিষয়টি সম্পন্ন হয়েছে। তাই এখানে কোনো সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। আমরা চাই কোনো সংকট তৈরি না হোক। তবে জনগণের যে মৌলিক প্রত্যাশা, একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ। সেদিকে নবগঠিত সংসদ এখনো এগোয়নি। আমরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখব।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হবে। যিনি প্রার্থী হবেন, তার প্রস্তাবক, সমর্থক ও সম্মতি থাকবে। একাধিক প্রার্থী হলে সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আমরা রাষ্ট্রপতির মর্যাদা রক্ষা করতে পারে এমন রাষ্ট্রপতি চাই, কোনো তোষামোদকারী নয়। আমরা যে সংস্কারের কথা বলছি, তা তোষামোদের সংস্কৃতি শেষ করার জন্যই। যার যার অবস্থানে সবাই মর্যাদার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, অন্য কারও নির্দেশে নয়; নীতি মেনে চলবেন। রাষ্ট্রপতিও রাষ্ট্রের নীতি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন, অন্য কারও কাছে নিজের বিবেক সমর্পণ করবেন না, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আজকে তার বক্তব্যে জেনেছি, তিনি গুরুতর অসুস্থ, মাঝে মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ কারণে তিনি দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে ও বিশ্রামে থাকতে চান। বিষয়টি সরকার দেখবে, আমরাও খেয়াল রাখব। তবে আমি মনে করি, সব ধরনের চিকিৎসাই দেশে সম্ভব। আমার নিজেরও একটি জটিল রোগ হয়েছিল, চিকিৎসকেরা বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি যাইনি। এখানেই চিকিৎসা নিয়েছি। আমি চাই সবাই দেশেই চিকিৎসা নিক। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা যেতে পারে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি শুধু তার ক্ষেত্রেই নয়, সবার ক্ষেত্রেই চাই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, যেই হোন না কেন, সবাই যেন দেশের ভেতরেই চিকিৎসা নেন। নির্বাচিত ব্যক্তিরা যদি সবাই বিদেশে চলে যান, তাহলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত হবে কীভাবে? দেশের চিকিৎসকেরা আস্থা ফিরে পাবেন কীভাবে? তারা তাদের কর্তব্য বুঝবেন কীভাবে? তাই আমাদের সবারই দেশে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

খা সা / এনজি