
ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে ডিবেটিং ক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী © সংগৃহীত
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের পেশাগত সততা ও নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই থাকুক না কেন, ক্যাম্পাসের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের পর তার একমাত্র পরিচয় হতে হবে ‘শিক্ষক’। তিনি দায়িত্বের জায়গায় শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বা ‘বায়াসড’ না হওয়ার আহ্বান জানান।
আজ রবিবার (২৪ মে) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘ডিআরইউ ডিবেটিং ক্লাব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় দায়িত্বের জায়গাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষক যেকোনো দল করতেই পারেন, সেটি তার নাগরিক অধিকার। কিন্তু ক্লাসরুমে যেন তার কোনো প্রভাব না পড়ে। শিক্ষার্থীদের মনোজগতে কোনো দলীয় পক্ষপাত তৈরি না করে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকরা যখন রাজনীতি করেন, তখন অনেক সময় এই সীমারেখাটি বজায় থাকে না।’
সাংবাদিক ও শিক্ষকদের কাজের ধরনের তুলনা করে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক ও সাংবাদিক উভয়কেই সমাজে দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করতে হয়। তাই শিক্ষকদের যেমন ক্লাসরুমে নিরপেক্ষ থাকতে হবে, ঠিক তেমনি সাংবাদিকদেরও সংবাদ প্রকাশের সময় ব্যক্তিগত আবেগ ভুলে সম্পূর্ণ যুক্তিনির্ভর ও ফ্যাক্ট-বেসড রিপোর্টিং করা উচিত।
এর আগে কা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-এর সদস্যদের জন্য প্রথমবারের মতো “ডিবেটিং ক্লাব”-এর যাত্রা শুরু করেছে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি। সাংবাদিকদের যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে এ ক্লাব চালু করা হয়েছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট বিতার্কিক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, “ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি দেশের সাংবাদিকদের অন্যতম বৃহৎ ও ঐক্যবদ্ধ সংগঠন। সুখ-দুঃখ, সংকট ও দুর্যোগে ডিআরইউ সদস্যরা যেভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়ান, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। করোনাকালে সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনটি মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”
ডিআরইউ ডিবেটিং ক্লাবের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকতার পাশাপাশি যুক্তিচর্চা, মেধা ও মননের বিকাশে ডিবেটিং ক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমাজের অসংগতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুক্তিনির্ভর চর্চা সমাজকে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নেবে। তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সংবাদমাধ্যম সমাজের দর্পণ। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে সাংবাদিকরা সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক পথ দেখান। তাই এমন সংবাদ পরিবেশন করতে হবে, যাতে মানুষের আস্থা অটুট থাকে এবং কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়।”
ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, জুলাই আন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের যে সাহসী ডাক উঠেছিল, তার অন্যতম সূচনা হয়েছিল ডিআরইউ থেকেই। যখন ছাত্রনেতারা কোথাও কর্মসূচি পালনের সুযোগ পাচ্ছিলেন না, তখন ডিআরইউ তাদের পাশে দাঁড়িয়ে এগিয়ে আসে। ডিআরইউ সবসময় মজলুম মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”
সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ডিআরইউ সবসময়ই সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, জ্ঞানচর্চা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সংগঠনটির ডিবেটিং ক্লাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সদস্যদের যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও সমসাময়িক বিষয়ে দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি তিনি এ উদ্যোগ সফল ও কার্যকর করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ন সম্পাদক জাফর ইকবাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, ও কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদী, ডিআরইউ ডিবেটিং ক্লাবের সদস্য সচিব শেখ মো. আরীফ, সদস্য আসিফ সুমিত প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, দপ্তর সম্পাদক মোঃ রাশিম মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য সদস্য মাজাহারুল ইসলাম, ডিবেটিং সোসাইটির সদস্য কাজী শহীদুল আলম এবং সংগঠনের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউ’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডিবেটিং ক্লাবের আহ্বায়ক এমএম জসিম অনুষ্ঠানে ডিবেটিং ক্লাবের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
জা ই / এনজি






