রাত ৮:৩৯ | বৃহস্পতিবার | ২৩ জুলাই, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩, বর্ষাকাল | ৮ সফর, ১৪৪৮

নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পত্তি জবর দখল চেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী
২৩ জুলাই ২০২৬
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অসহায় এক পরিবারের কোটি টাকার সম্পত্তি জবর দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদলের নেতা পারভেজের বিরুদ্ধে। সম্পত্তিটির দখল ছেড়ে দিতে ভিকটিম পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমতবস্থায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা নিজেদের নিরাপত্তাসহ সম্পত্তি রক্ষায়  প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চমহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভূক্তভোগী জানায়, বসুরহাট পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডস্থ..করালিয়া ৮ নং মৌজার ১৯৭ ও ১৯৮ নং দাগের ১৫ শতক সম্পত্তির মূল মালিক সাজেদা খাতুন। সাজেদা খাতুনের ২ ছেলে নুরুল আফছার ও সাইফুজ্জামান। বড় ছেলে একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি গুমের শিকার হোন। ছোট ছেলে দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিল। প্রায় ৭/৮বছর ধরে অসুস্থাবস্থায় দেশে আছেন। বড় ছেলে গুম হওয়ার পরে থেকে নিঃস্ব হয়ে পড়ে তার স্ত্রী ও ৪ মেয়ে। তখন সাজেদা খাতুন বড় ছেলের স্ত্রী ও ৪ মেয়ের পড়ালেখাসহ সংসার খরচ এ জায়গার উপর নির্মিত দোকানের ভাড়া থেকে বহন করতেন। পরিবারে প্রভাবশালী কোন পুরুষ না থাকায় সুযোগ বুঝে একটি চক্র এ সম্পত্তি জবর দখলের পাঁয়তারা করতে থাকে। এবং ওই চক্রটি সাজেদা খাতুনের স্বাক্ষর নকল করে ১৯৮৯ সালো একটি জাল দলিল তৈরি করে। এ চক্রের মূল হোতা আবু আহমদ গং।
জাল দলিল সুজনের বিষয়ট জানতে পেরে বৃদ্ধ সাজেদা খাতুন আদালতে এ ভূয়া দলিলের বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করেন। এবং তিনি লিখিত বক্তব্য ও ভিডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন যে, তিনি উক্ত জমি বিক্রি করেননি। সাজেদা খাতুন জীবিত থাকাবস্থায় কখনো মালিকানা আদায় বা এ সম্পত্তি দখল নিয়ে কোন ঝামেলা করেনি জাল দলিল সৃজন কারি আবু আহমেদ গং। চাক্রটি ভিতরে ভিতরে তাদের পাল্লা ভারি করার জন্য ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার দ্বারস্থ হোন। এবং ১ লক্ষ টাকার একটি বায়না দলিল করেন যুবদল নেতা পারভেজের সাথে। সাজেদা খাতুন মারা যাওয়ার ১৫ দিন পরে এ ভূয়া দলিল দেখিয়ে সম্পত্তিটি দখলের চেষ্টা করে যুবদল নেতা পারভেজ। সম্পত্তিটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
এ চড়া মূল্যের কারনেই ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে এ সম্পত্তির উপর। পর্দার আড়ালে থাকা ওইসব নেতা গুটি হিসেবে ব্যবহার করতেছে পারভেজকে।
পারভেজ ভূয়া দলিল দিয়ে সম্পত্তি দখল করতে গেলে সাজেদা খাতুনের নাতনী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামান্না পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানা প্রশাসনের কাছে পারভেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে পুলিশ পারভেজকে থানায় নিয়ে যায়। পরে বিএনপি নেতা সগির ও সাবেক কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম তার নিজ জিম্মায় পারভেজকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনেন। পারভেজ থানা থেকে আসার পরে আবারো সম্পত্তিটি দখলের পাঁয়তারা করছে বলে জানা গেছে। ভাড়াটিয়াদের হুমকি দিচ্ছে তাকে ভাড়া দেয়ার জন্য। না হয় দোকান ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য। এবং সাজেদা খাতুনের ছোট ছেলে ও নাতী-নাতনিদের এ সম্পত্তি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে আসছে। এ সম্পত্তি ছেড়ে না দিলে পুরো পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকিও প্রদান করে পারভেজ।
এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী অসহায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একদিকে জীবনের নিরাপত্তা অন্যদিকে নিজেদের কোটি টাকার সম্পত্তি। তারা তাদের নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষার্থে প্রধানমন্ত্রী ও উপরস্থ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত পারভেজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আবু আহমেদের কাছ থেকে সম্পত্তির বায়না করি। সে বায়না দলিল সূত্রে আমি সম্পত্তির দখল বুঝে নিতে যাই। তিনি বলেন, আমি কাউকে হুমকি ধামকি দেইনি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাকিম বলেন, হুমকি দিয়েছে মর্মে একটি অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তবে জায়গা জমি সংক্রান্ত ঝামেলা আদালতের বিষয়। আদালত কোনো নির্দেশনা দিলে সে অনুযায়ী কাজ করবো।
আ ই / এনজি