রাত ৯:৫১ | বৃহস্পতিবার | ৭ মে, ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল | ১৯ জিলকদ, ১৪৪৭

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিতর্ক, আসল সমস্যা কোথায়?

জান্নাত শ্রাবণী
০৭ মে ২০২৬

সম্প্রতি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। এমনকি সেই খবর জানিয়ে তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

পোস্টে লিখেছেন, ‘এই সমাজে অনেকে বিবাহিত হয়েও গোপনে হারামে জড়িয়ে পড়েন। আমি সেই পথে পা বাড়াতে চাইনি। আমি চেয়েছি আল্লাহর বিধানের মধ্যে থেকে হালালকে আঁকড়ে ধরতে। আমার এই সিদ্ধান্তে প্রথম আহলিয়ার (স্ত্রী) কষ্ট হচ্ছে, এটা ভেবে আমার বুক ভেঙে যায়। আমি দীর্ঘ সময় ধরে তাকে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি যেন তার মন নরম হয়। আল্লাহ যেন আমাকে ইনসাফ করার তাওফিক দেন, যাতে আমি কারও হক নষ্ট না করি বা কারও ওপর জুলুম না করি।’

মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীমাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী, ছবি: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত

এই পোস্টের পরই সোশ্যাল মিডিয়া সরব দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিয়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই পোস্টে হাজার হাজার মন্তব্য। কেউ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমর্থন দিয়েছেন, কেউ আবার লিখেছেন, প্রথম স্ত্রীকে কষ্ট দিয়ে কোনো সুন্নত পূর্ণ হয় না।

শুধু এটাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিতর্ক যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। কখনও কোনো অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন, কখনও জনপ্রিয় ইউটিউবারের বিয়ে, আবার কখনও সাধারণ মানুষের পারিবারিক ঘটনা ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে ফেসবুক, টিকটক কিংবা ইউটিউবে। আর প্রতিবারই একই প্রশ্ন সামনে আসে, দ্বিতীয় বিয়ের আসল সমস্যা কোথায়? সমস্যা কি শুধু দ্বিতীয় বিয়ে? নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে বিশ্বাসের সংকট, আর্থিক অস্থিরতা, মানসিক অবহেলা এবং সামাজিক দ্বিচারিতা?

একজন স্ত্রী যদি জানতে পারেন যে তার স্বামী তাকে না জানিয়ে আরেকটি বিয়ে করেছেন, তাহলে সেটি তার মানসিক জগতে গভীর আঘাত তৈরি করতে পারে। দাম্পত্য সম্পর্ক মূলত বিশ্বাস, বিশ্বস্ততা ও পারস্পরিক প্রতিশ্রুতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। একজন আরেকজনের প্রতি আবেগিক ও সম্পর্কগতভাবে অনুগত থাকবেন, এমন একটি নীরব অঙ্গীকার এই সম্পর্কে থাকে। তাই সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙে গেলে স্ত্রীর মনে তীব্র বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তার মনে হতে পারে, তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।-মনোবিজ্ঞানী নুজহাত রহমান

মনোবিজ্ঞানী নুজহাত রহমান বলেন, একজন স্ত্রী যদি জানতে পারেন যে তার স্বামী তাকে না জানিয়ে আরেকটি বিয়ে করেছেন, তাহলে সেটি তার মানসিক জগতে গভীর আঘাত তৈরি করতে পারে। দাম্পত্য সম্পর্ক মূলত বিশ্বাস, বিশ্বস্ততা ও পারস্পরিক প্রতিশ্রুতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। একজন আরেকজনের প্রতি আবেগিক ও সম্পর্কগতভাবে অনুগত থাকবেন, এমন একটি নীরব অঙ্গীকার এই সম্পর্কে থাকে। তাই সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙে গেলে স্ত্রীর মনে তীব্র বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তার মনে হতে পারে, তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনায় অনেক নারী নিজের ভেতরেই নানা প্রশ্ন খুঁজতে থাকেন। তাদের মনে হতে পারে, আমার কী কমতি ছিল যে আমার স্বামী অন্য একজনের কাছে গেলেন? এই প্রশ্ন থেকেই জন্ম নিতে পারে গভীর অপরাধবোধ ও লজ্জাবোধ। যদিও বাস্তবে এর দায় সবসময় তার নিজের নয়, তবুও তিনি নিজেকেই দোষারোপ করতে থাকেন।

এর প্রভাব পড়ে আত্মসম্মানবোধের ওপরও। নিজের মূল্য ও গুরুত্ব নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। একই সঙ্গে তৈরি হতে পারে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা। কারণ, যখন বিশ্বাসভঙ্গ ঘটে, তখন সম্পর্কটিকেই অনিরাপদ মনে হতে শুরু করে। শুধু আবেগিক সম্পর্ক নয়, নিজের সংসার, বসবাসের জায়গা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তিনি ভাবতে থাকেন, এই সংসার কি আর টিকে থাকবে, তিনি কি আগের মতো এই পরিবারে থাকতে পারবেন, নাকি তাঁকে নতুন কোনো বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। সব মিলিয়ে, এমন পরিস্থিতি একজন নারীর মনে গভীর মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা ও আত্মবিশ্বাসের সংকট তৈরি করতে পারে।

দ্বিতীয় বিয়ে: বাস্তবতা বনাম রোমান্টিক কল্পনা

বাংলাদেশি সমাজে দ্বিতীয় বিয়ে নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই এটি চলে আসছে। তবে আগে বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল পরিবার কিংবা আত্মীয়স্বজনের আলোচনায়। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে ব্যক্তিগত বিষয় মুহূর্তেই জনসমক্ষে চলে আসে।

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক, আসল সমস্যা কোথায়?

অনেক পুরুষ দ্বিতীয় বিয়েকে ব্যক্তিগত অধিকার হিসেবে দেখেন। আবার অনেকে ধর্মীয় অনুমতির বিষয়টিকে সামনে আনেন। কিন্তু বাস্তব জীবনে দ্বিতীয় বিয়ের পর যে মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা সন্তানের ওপর প্রভাব পড়ে সেই আলোচনা খুব কমই হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্বিতীয় বিয়েকে ঘিরে অনেক সময় এক ধরনের ‘পুরুষালি সাফল্য’ হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়। কিছু কনটেন্ট নির্মাতা এমনভাবে বিষয়টি তুলে ধরেন যেন একাধিক বিয়ে করা খুব সহজ, মজার বা গর্বের বিষয়। অথচ বাস্তবতা অনেক কঠিন। একটি সংসারই যেখানে আর্থিক ও মানসিকভাবে সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে, সেখানে দ্বিতীয় সংসার যোগ হলে দায়িত্বও দ্বিগুণ হয়ে যায়।

বিশ্বাস ভাঙার ভয়

বাংলাদেশের অধিকাংশ নারী দ্বিতীয় বিয়ের প্রসঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে কষ্ট পান, সেটি হলো বিশ্বাস ভাঙা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বামী দীর্ঘদিন গোপনে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ দ্বিতীয় বিয়ের ঘোষণা দেন। তখন প্রথম স্ত্রীর কাছে বিষয়টি শুধু ‘আরেকটি বিয়ে’ থাকে না, বরং এটি হয়ে দাঁড়ায় প্রতারণা ও অসম্মানের অভিজ্ঞতা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কের ভিত্তি মূলত বিশ্বাস, সম্মান এবং নিরাপত্তাবোধের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। যখন একজন নারী অনুভব করেন যে তাকে না জানিয়ে বা তার মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তখন মানসিক আঘাত তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।

বাংলাদেশি সমাজে এখনও অনেক নারী আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী নন। ফলে সম্পর্ক ভেঙে গেলেও অনেক সময় তারা প্রতিবাদ করতে পারেন না। এই অসহায় অবস্থাও সামাজিক বিতর্ককে আরও জটিল করে তোলে।

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক, আসল সমস্যা কোথায়?ধর্মের কথা যতটা বলা হয়, দায়িত্বের কথা ততটা নয়

দ্বিতীয় বিয়ের আলোচনায় ধর্মীয় বিষয়টি প্রায়ই সামনে আসে। ইসলাম নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে একাধিক বিয়ের অনুমতি দিয়েছে, এ কথা সত্য। তবে একই সঙ্গে ন্যায়বিচার, সমান দায়িত্ব ও সমান আচরণের বিষয়টিও কঠোরভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, অনেকেই অনুমতির অংশটুকু জোর দিয়ে বলেন, কিন্তু দায়িত্বের জায়গাটি এড়িয়ে যান।

একাধিক সংসারের খরচ, সন্তানের অধিকার, মানসিক সময় দেওয়া, সমান আচরণ এসব বাস্তবে পালন করা কতটা কঠিন, তা নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ধর্মীয় বক্তব্য আর বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যে এক ধরনের সংঘাত তৈরি হয়। কেউ বিষয়টিকে পুরোপুরি ধর্মের দোহাই দিয়ে সমর্থন করেন, আবার কেউ সব ধরনের দ্বিতীয় বিয়েকেই নেতিবাচক হিসেবে দেখেন। মাঝখানের বাস্তবতাটি হারিয়ে যায়।

অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বড় কারণ

বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং মধ্যবিত্তের অর্থনৈতিক চাপ এখন বড় বাস্তবতা। একটি পরিবারের খরচ সামলাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে দ্বিতীয় সংসার অনেক ক্ষেত্রে নতুন সংকট তৈরি করছে।

অনেক নারী অভিযোগ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম সংসারের খরচ কমে যায়, সন্তানের পড়াশোনায় সমস্যা হয় কিংবা স্বামীর দায়িত্ববোধে পরিবর্তন আসে। অন্যদিকে কিছু পুরুষও দাবি করেন, প্রথম সংসারে মানসিক অশান্তি, সম্পর্কের দূরত্ব বা পারিবারিক চাপের কারণে তারা দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। অর্থাৎ সমস্যাটি একপাক্ষিক নয়। তবে সমাধানের জায়গায় খোলামেলা আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব স্পষ্ট।

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক, আসল সমস্যা কোথায়?

সোশ্যাল মিডিয়া কেন আগুনে ঘি ঢালছে?

ফেসবুক-টিকটকের যুগে ব্যক্তিগত জীবনও এখন ‘কনটেন্ট’। দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে মিম, ট্রল, শর্ট ভিডিও কিংবা নাটকীয় স্ট্যাটাস মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। এর ফলে একটি জটিল সামাজিক ও মানসিক বিষয় অনেক সময় বিনোদনের উপাদানে পরিণত হয়।

কেউ ‘দ্বিতীয় বউ আনার টিপস’ দিয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন, কেউ আবার প্রথম স্ত্রীকে ব্যঙ্গ করে কনটেন্ট করছেন। এসব কনটেন্ট তরুণদের মধ্যে ভুল বার্তাও ছড়িয়ে দিতে পারে। সম্পর্কের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে যখন শুধুই হাস্যরস বা ভাইরাল হওয়ার মাধ্যম বানানো হয়, তখন বাস্তব জীবনের কষ্টগুলো আড়ালেই থেকে যায়।

নারীরা এখন আগের চেয়ে বেশি সরব

আগে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নারীদের কষ্ট অনেকটাই চাপা থাকত। এখন সামাজিক মাধ্যমে নারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। কেউ প্রতারণার গল্প বলছেন, কেউ মানসিক ভাঙনের কথা তুলে ধরছেন, আবার কেউ আইনি অধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরি করছেন। এ কারণেই দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিতর্ক এখন আরও দৃশ্যমান।

বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের নারীরা সম্পর্কে সম্মান, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সিদ্ধান্তকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে ‘স্বামী চাইলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন’ এই পুরোনো ধারণা ধীরে ধীরে প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

মনোবিজ্ঞানী নুজহাত রহমান আরও বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতির প্রভাবে একজন মানুষের মধ্যে গভীর বিষণ্নতা তৈরি হতে পারে। ধীরে ধীরে তা বিভিন্ন মানসিক সমস্যারও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকেই তীব্র উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটির মধ্যে দিয়ে যান, যার ফলে তাদের স্বাভাবিক আচরণ ও দৈনন্দিন জীবনযাপন ব্যাহত হয়।

এ সময় ব্যক্তি নিজের প্রতি যত্নশীলতা হারিয়ে ফেলতে পারেন। খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা, ঘুমের সমস্যা, শারীরিক দুর্বলতা ও স্বাস্থ্যহানির মতো বিষয়গুলো দেখা দিতে পারে। এমনকি নিজের যত্ন নেওয়ার প্রতিও অনীহা তৈরি হয়।

অনেকেই ধীরে ধীরে নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নেন, সামাজিক যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন এবং এক ধরনের আত্মবিচ্ছিন্নতায় ভুগতে থাকেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে আত্মক্ষতি বা সেলফ-হার্মের প্রবণতা দেখা দিতে পারে, এমনকি আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। পাশাপাশি মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে কেউ কেউ মাদকাসক্তির দিকেও ঝুঁকে পড়তে পারেন।-মনোবিজ্ঞানী নুজহাত রহমান

অনেকেই ধীরে ধীরে নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নেন, সামাজিক যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন এবং এক ধরনের আত্মবিচ্ছিন্নতায় ভুগতে থাকেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে আত্মক্ষতি বা সেলফ-হার্মের প্রবণতা দেখা দিতে পারে, এমনকি আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। পাশাপাশি মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে কেউ কেউ মাদকাসক্তির দিকেও ঝুঁকে পড়তে পারেন।

আসল সমস্যা কোথায়?

আসল সমস্যা শুধু দ্বিতীয় বিয়েতে নয়। সমস্যা তৈরি হয় যখন সম্পর্কের মধ্যে সততা থাকে না, প্রথম স্ত্রীর অনুভূতিকে অগ্রাহ্য করা হয়, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা আসে, ধর্মকে ব্যবহার করা হয়, কিন্তু ন্যায়বিচার মানা হয় না, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে পরিবার ও সন্তানের মানসিক দিক উপেক্ষিত হয়।

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিতর্ক হয়তো ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, বাংলাদেশি সমাজ এখন সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু ‘অধিকার’ নয়, ‘দায়িত্ব’ এবং ‘সম্মান’ এর প্রশ্নও তুলছে।

আর এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় দ্বিতীয় বিয়ে আর শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি এখন সামাজিক, মানসিক ও নৈতিক আলোচনারও অংশ।

 

 

ফা আ/ এনজি ডেস্ক

সৌজন্যে : জাগোনিউজ