রাত ১:৩৫ | শুক্রবার | ৩ জুলাই, ২০২৬ | ১৯ আষাঢ়, ১৪৩৩, বর্ষাকাল | ১৭ মহর্‌রম, ১৪৪৮

দক্ষ টেক্সটাইল প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরির বিকল্প নেই — শিক্ষা মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
 ০১ জুলাই ২০২৬
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি টেক্সটাইল খাতকে আরও এগিয়ে নিতে গবেষণা, উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শীর্ষ অবস্থানে নিতে দক্ষ টেক্সটাইল প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরির বিকল্প নেই।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস (বুটেক্স)-এর নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বুটেক্সে ভর্তি হওয়া কোনোভাবেই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারার বিকল্প নয়। বরং এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে।

তিনি জানান, চলতি বছর বুটেক্সের প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বিভিন্ন ক্যাডারে, বিশেষ করে প্রশাসন, পররাষ্ট্র ও পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এছাড়া বুটেক্সের সাবেক শিক্ষার্থীরাও দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। বিদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা দেখে গর্ববোধ হয়। তবে দেশের বাজারেও আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে এবং এ জন্য উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের এই উদ্ভাবনের নেতৃত্ব তারাই দেবে।

ড. মিলন বলেন, টেক্সটাইল প্রকৌশল মূলত বিজ্ঞানভিত্তিক একটি ক্ষেত্র। তাই এ খাতে আধুনিক গবেষণাগার, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালিত ল্যাব স্থাপন সময়ের দাবি। টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতমানের গবেষণা নিশ্চিত করতে অধিকতর বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা, বিশেষ করে কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। উন্নত বিশ্বের জনসংখ্যা কমলেও বাংলাদেশের জনসংখ্যা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, যা দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।

তিনি বলেন, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলে সরকার নতুন ভবন নির্মাণ করবে। বর্তমানে বছরে মাত্র ৬৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও ভবিষ্যতে আসনসংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। কারণ বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা পূরণে আরও বেশি টেক্সটাইল প্রকৌশলী তৈরি করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের অনেক টেক্সটাইল শিল্প ও বায়িং হাউসে বিদেশি, বিশেষ করে ভারতীয় ও শ্রীলঙ্কান নাগরিকরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন। অথচ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা মেধায় কোনো অংশে পিছিয়ে নন। তাই দেশের টেক্সটাইল খাত পরিচালনায় দেশীয় প্রকৌশলী ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও আধুনিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, ইউনিফর্ম এবং খেলাধুলাভিত্তিক আনন্দময় শিক্ষা চালু করা হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে এবং ২০২৭ সালে পরিমার্জিত এবং ২০২৮ সালে নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

ড. মিলন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় সময়ের অপচয় কমাতে সরকার সেশনজট নিরসনে গুরুত্ব দিচ্ছে। এসএসসি ১০ বছর, এইচএসসি দুই বছর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক চার বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হলে দেশের জনমিতিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।

তিনি জানান, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকার দুটি বিশেষায়িত সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত। আবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যয়ও অনেক বেশি। তাই সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টেক্সটাইল শিল্পকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে। শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। বুটেক্সের অনেক সাবেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে শিল্পোদ্যোক্তা হয়েছেন। নতুন শিক্ষার্থীদেরও সেই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তোমাদের সঙ্গে রয়েছেন।’

দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দের আবেদনের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আবেদনটি সরকার বিবেচনা করবে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের জন্য প্রয়োজনীয় জমিরও ব্যবস্থা করা হবে।

টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য পৃথক বিসিএস ক্যাডার গঠনের দাবির বিষয়ে ড. মিলন বলেন, বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হলেও দাবিটি যৌক্তিক। এটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং টেক্সটাইল খাতকে বিশ্বে আরও এগিয়ে নিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। সরকার তাদের যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলসের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

জা ই / এনজি