রাত ১:১৬ | মঙ্গলবার | ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩, শরৎকাল | ৩ রবিউস সানি, ১৪৪৮

ইয়েমেনের হুথি সংকট মোকাবিলার প্রশ্নে ‘বিভ্রান্ত’ ট্রাম্প?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহী ক্রমশ অগ্রসর হওয়া এবং সৌদি ও ইয়েমেনের সঙ্গে গোষ্ঠীটির সংঘাত নিয়ে ‘বিভ্রান্ত’ অবস্থায় আছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আসলে ‘ভেবে পাচ্ছেন না’ যে কীভাবে এ সংকটকে সামাল দেওয়া যাবে।

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছে সৌদি আরবের। ইতোমধ্যে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পর গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল মান্দেব প্রণালি দখল করেছে হুথি যোদ্ধারা, যা সৌদির জন্য বড় দুঃসংবাদ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাব এল মান্দেব প্রণালি দিয়ে এত দিন নিজেদের অধিকাংশ জ্বালানি তেল রপ্তানি করে আসছিল সৌদি আরব।

হুথি গোষ্ঠীকে দমন করতে মার্কিন বাহিনীর অভিযান সহায়তা চেয়ে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে টেলিফোন করেছিলেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে এই মুহূর্তে হুথিদের দমন করতে অভিযান পরিচালনা করার মতো অবস্থায় নেই যুক্তরাষ্ট্র, তবে ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে পরামর্শ সহায়তা দিতে পারবে।

সাক্ষাৎকারে আলজাজিরাকে কেনেথ কাৎজমান বলেন, “ইয়েমেনের পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবেন— তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং এ ইস্যুতে তিনি কার্যকর কমান্ডার-ইন-চিফের ভূমিকায় আসছেন না। যুক্তরাষ্ট্র দশকের পর দশক ধরে সাগরে অবাধ জাহাজ চলাচল—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের বিষয়টিকে নিজেদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে; কিন্তু বর্তমানে ইরান ও ইয়েমেনের হুতিদের কারণে সেই অবাধ চলাচলের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।”

“এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল তাঁর চেয়ারে বসে আছেন, খুব একটা কিছু করছেন না এবং আশা করছেন যে সৌদি আরবের মাধ্যমেই কোনোভাবে এর সমাধান হয়ে যাবে—যা ঘটার সম্ভাবনা কম।”

 

 

সূত্র : আলজাজিরা

আ ই/ এনজি