ভারী বৃষ্টিপাতে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাজুড়ে বিভিন্ন শিবিরে গাদাগাদি করে বসবাসরত বাস্তুচ্যুতদের হাজার হাজার তাবু তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে বহু আশ্রয়কেন্দ্র ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি কম্বল ও তোষক পুরোপুরি ভিজে যাওয়ায় ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা।
উপত্যকার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০টি জরুরি সহায়তার অনুরোধ পেয়েছে। এ সময় পরিত্যক্ত তিনটি ভবন ধসে পড়েছে। তবে ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি।
গাজার স্থানীয় বাসিন্দা ওলফাত মাগদুব তাঁবু থেকে পানি সেচে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেন, আজকে বৃষ্টির প্রথম দিনেই আমাদের এই অবস্থা হয়েছে। যদি কাল আবার বৃষ্টি নামে, তাহলে আমাদের কী দশা হবে? আজ তো সবে শুরু, তাতেই আমরা একদম দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
ওলফাত বলেন, দুই সপ্তাহ আগে যখন বৃষ্টি হয়েছিল, তখনই বিছানাপত্র সব বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়ায় আমাকে টানা চার দিন মেঝের ওপর কম্বল পেতে ঘুমাতে হয়েছিল। আজও ঠিক একই অবস্থা, তোশকগুলো সব ভিজে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের মাটিতেই ঘুমাতে হচ্ছে।
পৌরসভা ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা বলেছেন, তীব্র জ্বালানি সংকট এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা এই প্রবল দুর্যোগ সামাল দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছেন।
তারা বলেছেন, হামাসের বিরুদ্ধে চলমান দীর্ঘ এই সামরিক অভিযানে বুলডোজার ও পানি সেচ দেওয়ার গাড়িসহ শত শত যানবাহন ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েল। এই যুদ্ধের কারণে গাজার ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দার সিংহভাগই আজ বাস্তুচ্যুত এবং পুরো ভূখণ্ড ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এখানকার অধিকাংশ মানুষই খোলা আকাশের নিচে বা তাঁবুশিবিরে দিন কাটাচ্ছেন।
গাজায় প্রয়োজনীয় আশ্রয় ও নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে হামাস।
ত্রাণ তৎপরতা সমন্বয়কারী ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা সিওজিএটি হামাসের এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিওজিএটি বলেছে, এই ভারী বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে গাজাজুড়ে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি উন্নত করতে নিজেদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে তারা।
সূত্র: রয়টার্স
জা ই / এনজি






