নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী পরিচালিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শন করেন তিনি। পরে মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুবাইদা রহমান এ আহ্বান জানান।
শিশুরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘এখানে এসে একটি কথাই মনে পড়ছে, সেটা হলো— যেকোনো আকাঙ্ক্ষার জন্য মুক্ত আকাশই শেষ সীমানা। শিশু কিশোররা আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাবে। কারণ, আজকের শিশু আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ।’
শিশুদের উৎকর্ষ সাধনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীতে কন্যা শিশুদের জন্য বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই শিশুদের উৎকর্ষ সাধনের জন্যই স্থাপিত হয়েছিল শিশু একাডেমি। পরবর্তীতে কন্যা শিশুদের উচ্চতর স্তরে লেখাপড়া অবৈতনিক করা হয়। নতুন কুঁড়ির মতো সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলা বিষয়ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।’
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর জীবন অগণিত আকাশচুম্বী ভাবনায় ভরপুর। শুধু চায় সুষ্ঠু শিক্ষা ব্যবস্থা, তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের বন্দোবস্ত ও সবুজ খোলামাঠে প্রকৃতির মাঝে খেলাধুলা, বিচরণের সুযোগ, যেকোনো ব্যাধির চিকিৎসার নিশ্চয়তা আমাদের সকলের সৃষ্টি করতে হবে। যেন বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়, উপজেলায়, ৫৯৯টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৯৯০ টি গ্রামের কোনো শিশু-কিশোর অবহেলায় ঝরে না পড়ে। প্রত্যেক শিশু যেন তার অভিভাবক ও পরিবারের কাছে সুরক্ষিত থাকে।’
শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রশংসা করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পেলে শিশুরা তাদের অসীম প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে। দলগতভাবে যেকোনো সাফল্য অর্জন এবং খেলাধুলার মানসিকতা তাদের পরবর্তীতে দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে শক্তি ও মনোবল জোগাবে।’
জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শিশুরা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রিয় ও মূল্যবান সম্পদ। তাদের সকলের মধ্যে আকাশচুম্বী স্বপ্ন— নীল আকাশে ডানা মেলে উড়বে। তাদের ইচ্ছা— আকাশচুম্বী মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘শিশুরা আজ প্রমাণ করেছে— সকলে মিলে একসঙ্গে কিছু সার্থক করার পরিচয়। যেটি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত জরুরি। এই শিক্ষায় তাদের পরবর্তীতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার মনোবল ও শক্তি জোগাবে। তোমরাই নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে বাংলাদেশের মুখ আলোকিত করবে।’
অনুষ্ঠানে নারীদের ক্ষমতায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নে বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির (বাফওয়া) ভূমিকা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের ৫১ শতাংশ নারী জনসংখ্যার উন্নয়নে বাফওয়ার এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও হস্তশিল্পের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অভিনব। তিনি গোল্ডেন ঈগল স্কুলের ছাত্রীদেরও ধন্যবাদ জানান এবং তাদের সম্ভাবনার শীর্ষে পৌঁছানোর শুভ কামনা জানান।
বক্তব্যের আগে ডা. জুবাইদা রহমান ব্লু স্কাই স্কুল পরিদর্শন শেষে স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং ‘বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারি’র শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা জুবাইদা রহমানের সামনে গান, নৃত্য, ফ্যাশন শো-সহ নানা পারফরম্যান্সে অংশ নেন। এ সময় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও থেরাপি সুবিধা প্রদানসহ নারীদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে বাফওয়ার মানবিক উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন জুবাইদা রহমান।
পরে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জুবাইদা রহমানের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন ব্লু স্কাই স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।
পরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি এবং আদার্স ওমেন এন্ড চিলড্রেন ক্লাবের পক্ষ থেকে জুবাইদা রহমানের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও বিশেষ উপহার হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি ছবি তুলে দেওয়া হয়।
পরে বাফওয়া কর্মসূচি এবং ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্মিত ভিডিওচিত্র প্রদর্শনী করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি এবং আদার্স ওমেন এন্ড চিলড্রেন ক্লাবের সভানেত্রী সালেহা খান। আরো বক্তব্য রাখেন, ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর উল্লাহ ( পিএসসি)।
অনুষ্ঠানে সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বাফওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভানেত্রীবৃন্দ, বাফওয়া এ কে খন্দকার ও বাশার শাখার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






