রাত ১০:৩৮ | বুধবার | ১২ আগস্ট, ২০২৬ | ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩, বর্ষাকাল | ২৮ সফর, ১৪৪৮

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : কাল ঘোষণা, মির্জা ফখরুলকে ঘিরেই বিএনপির সব প্রস্তুতি

বিশেষ প্রতিবেদন

 

জাফর ইকবাল

১২ আগস্ট ২০২৬

 

 

 

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই। দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুলকে ঘিরেই বিএনপির সব প্রস্তুতি। কাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে বিএনপি। ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়সীমা।

এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ  জানিয়েছেন, আগামী ২০ আগস্ট বিরতিহীনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তাদের সদস্য পদ বাতিল হবে। অন্যদিকে আগামী ২৭ আগস্ট সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখন আলোচনা হচ্ছে, সব দিক বিবেচনায় মির্জা ফখরুলই রাষ্ট্রপতি পদে

বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত এটি নিশ্চিত। তবে তিনি দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হলে একই সঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় শূন্যতা তৈরি হবে। সেগুলো হচ্ছে বিএনপি মহাসচিব পদ, স্থানীয় সরকার বিষয়কমন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য। ফলে কে হবেন তার উত্তরসূরি, এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

ইসির তপশিল অনুযায়ী, ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ইসি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিধান আছে। কারণ, একটি মনোনয়নপত্রে কোনো ভুল–ত্রুটি থাকলে যাতে অন্যটি বিবেচনায় নেওয়া যায়। সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচনের সময়ও এমনটা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। সচরাচর ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হন। বিরোধী দল সাধারণত এ পদে প্রার্থী দেয় না। তাই ভোটাভুটির দরকার হয় না। তবে এবার জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে।

বিএনপিতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতা: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে বিএনপিতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এবং আনুষ্ঠানিকতা। সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। এখন সবার আগ্রহের বিষয়—কে হচ্ছেন দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি। হয়তো আজকেই সেটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধি অনুযায়ী প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর প্রদান করতে হয়। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট সম্মতিসূচক নথিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত আসেনি। এমনকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না।

ইসি থেকে বিএনপির পক্ষে এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। আজ বিকেলে নয়াপল্টন বা গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার বিষয়ে সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কালবেলাকে বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য আমরা দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। সব প্রস্তুতি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে (বুধবার)। এরপরই আমরা অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেব।

দীর্ঘ ত্যাগের মূল্যায়ন: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় নেতাদের মতে, দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে রাজপথের আন্দোলনে ভূমিকা ও কঠিন সময়ে দল পরিচালনার পুরস্কার হিসেবে মির্জা ফখরুলকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানিত পদে আসীন করা হচ্ছে। ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তার রয়েছে বর্ণাঢ্য পারিবারিক ইতিহাস। মির্জা ফখরুল নিজেও তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সরকারি কলেজের শিক্ষকতা দিয়ে।

দল ও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের হাওয়া: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাকে দলের মহাসচিবের পদ এবং মন্ত্রিসভা উভয় স্থান থেকে পদত্যাগ করতে হবে। ফলে বিএনপি এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পদে দেখা যেতে পারে বড় ধরনের পরিবর্তন। এমন অবস্থায় দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছে বিএনপি। ফলে কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রুহুল কবির রিজভী। যিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় হলো স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে তার মন্ত্রণালয় শূন্য হবে। এক্ষেত্রে নতুন মুখ আসতে পারেন। তা ছাড়া স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সাধারণত দলের মহাসচিবকেই বিবেচনা করা হয়। অতীতেও তাই হয়েছে। ফলে রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রীও হতে পারেন বলে অনেকেই ধারণা করছেন।

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সদস্য পদ বাতিল’: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, তাই এটা কার্যকর হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তাদের সদস্য পদ বাতিল হবে। গতকাল জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সভায় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ছাড়াও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ জি কে গউছ, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ।

সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, যাবতীয় লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে সভার কার্যবিবরণীর প্রয়োজনীয় সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয়।

পরে সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিএনপির দলীয় প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দায়িত্ব দিয়েছে দল, তিনি প্রার্থী ঘোষণা করবেন। বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা বৈঠক করেছিলাম।

তিনি বলেন, ভোটটা হবে সংসদের মধ্যে এবং বুথ (বক্স) থাকবে সংসদের মধ্যে। সংসদ সদস্যরা তাদের বিভক্তি অনুযায়ী, তাদের আসন নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন। ভোট শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে ৩৪৯টি ভোট দেওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের আগে ফল তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আর যদি দেখা যায় একটা ভোট বাকি আছে, তার জন্য আমরা ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। ৫টার পর ফল ঘোষণা করব।

চিফ হুইপ বলেন, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের ভোট দেওয়ার সময়টি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর ভোট শেষের পর গণনা থেকে শুরু করে ফল হওয়া পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের পরামর্শে এক দিনের বৈঠক ডাকবেন সিইসি।

নির্বাচনে বিরোধী দলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের জন্য একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন এবং আমরা দেশবাসীকে রাজনৈতিক অবস্থানটাও জানান দিতে চাই। আমাদের যিনি প্রার্থী তাকে আমরা মনে করছি এ মুহূর্তে বাংলাদেশের অভিভাবকত্ব হিসেবে তিনি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হবেন।

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা হওয়া উচিত ছিল। যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতো। নাহিদ বলেন, তারপরও যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, এটাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় (কনটেস্ট) দিতে চাই না। আমরা সে কারণে বিরোধী দলের জায়গা থেকে সেখানে প্রার্থী দিয়েছি।

রাষ্ট্রপতি ভোটের বৈঠক আহ্বান করলেন সিইসি: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ আগস্ট। ভোটের জন্য ওইদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ কক্ষে বৈঠকের আহ্বান করেছেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। গতকাল এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এত বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন-১৯৯১ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনাক্রমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ভোট গ্রহণের দিন অর্থাৎ ২০ আগস্ট দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করছি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। এ দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য এরই মধ্যে সরকারি ও ১১ দলীয় ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী ২৭ আগস্ট। ওইদিন বিকেল ৩টা থেকে অধিবেশন আহ্বান করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গতকাল সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন এ তথ্য জানান। এর আগে গত ১৫ জুলাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (প্রথম বাজেট অধিবেশন) অধিবেশন শেষ হয়। ওই অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়। একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতিকে ৬০ দিনের মধ্যে আরেকটি অধিবেশন আহ্বান করতে হয়।

সূত্র জানায়, সাধারণত বছরের এ সময়ে ডাকা অধিবেশন খুব একটা দীর্ঘ হয় না। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় মূলত এই অধিবেশন ডাকা হয়ে থাকে। এ অধিবেশন সপ্তাহখানেক চলে। তবে এবারের অধিবেশন কত দিন চলবে, তা অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। অবশ্য এবারের অধিবেশনে বেশ কয়েকটি বিল পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

জা ই/ এনজি