নিজস্ব প্রতিবেদক
একদিকে বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল জলরাশি আর ফেনিল তরঙ্গ, অন্যদিকে বাঁধভাঙা মানুষের কোলাহল। ঢেউয়ের গর্জনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে ওঠা মুহুর্মুহু স্লোগান। এমন এক অভাবনীয় ও চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক পরিবেশে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সমুদ্রের জলরাশির পাশেই বাঁশখালীবাসীর উদ্দেশ্যে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রাম জেলায় এটিই তার প্রথম সফর। আর সফরসূচির অন্যতম আকর্ষণীয় ও আবেগঘন স্থান বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন প্যান্ডেল।
ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো এলাকা রূপ নেয় এক জনসমুদ্রে। রোদের তীব্রতা আর দূরদূরান্তের পথ পেরিয়ে আসা হাজার হাজার মানুষ মিছিলে মিছিলে যোগ দিচ্ছেন সমাবেশস্থলে। বাঁশখালী পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা মানুষের হাত ছুঁয়ে যাওয়া ব্যানার-ফেস্টুন সৈকতের বাতাসে পতপত করে উড়ছে।
সমুদ্রপাড়ের এ সুধী সমাবেশে আসার পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য অবশ্য বিনোদন নয়, বন্যায় নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে যেসব পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছিল, তাদের নতুন আশার আলো দিতেই বাঁশখালীতে হাজির হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
বাঁশখালী পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নের সবচেয়ে অসচ্ছল ও বন্যায় বিধ্বস্ত ১০০টি পরিবারকে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দুর্যোগসহনশীল ঘরের চাবি তুলে দেবেন সরকারপ্রধান। মাটির ঘর ধসে পড়ে নিঃস্ব হওয়া জেলে সম্প্রদায় ও অসচ্ছল পরিবারগুলোকে এ তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বাহারছড়ার জেলেপাড়ার সন্তানহারা ও বন্যায় ঘর হারানো স্বামীহারা এক নারীর হাতে প্রথম প্রতীকী চাবিটি তুলে দেওয়া হবে। প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট; সঙ্গে রয়েছে পাঁচ ফুট বাই পাঁচ ফুটের একটি সংযুক্ত শৌচাগার। আরসিসি পিলার, কাঠ ও আধুনিক টিনে তৈরি এসব ঘর প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগেও মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় হবে।
সৈকতের সম্ভাবনায় নতুন দিগন্ত
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এখনো পর্যটন মানচিত্রে সেভাবে স্থান পায়নি। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক উপস্থিতির মাধ্যমে বাহারছড়া সৈকত দেশ-বিদেশে নতুন পরিচয় পাবে। এতে স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় ও উপকূলীয় অর্থনীতির চাকা আরও বেগবান হবে।
সমাবেশস্থলে উপস্থিত স্থানীয় এক বাসিন্দা উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, আমাদের উপকূলীয় এলাকা সবসময় দুর্যোগের মুখোমুখি হয়। কিন্তু সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনবেন, আমাদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেবেন, এ দৃশ্য আমাদের সব দুঃখ ভুলিয়ে দিচ্ছে।
একনজরে প্রধানমন্ত্রীর বাকি দিনের সূচি
বাঁশখালীতে চাবি হস্তান্তর, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক অনুদান ও ত্রাণ বিতরণের পর্ব শেষে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ি পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
এরপর সড়কপথে হাটহাজারী গিয়ে মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত এবং হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ৩০টি পরিবারের হাতে সহায়তা তুলে দেবেন তিনি।
দিনব্যাপী জেলা ও উপজেলার নানা কর্মসূচির ইতি টেনে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে এক সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনভর ব্যস্ত সফর শেষে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।
জা ই/ এনজি ডেস্ক






