রাত ১১:৫২ | বৃহস্পতিবার | ৬ আগস্ট, ২০২৬ | ২২ শ্রাবণ, ১৪৩৩, বর্ষাকাল | ২২ সফর, ১৪৪৮

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ আগস্পট ২০২৬

 

 

রিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, বিক্রয় ও বিপণন কার্যক্রমকে বেসরকারি পর্যায়েও পরিচালনার সুযোগ করে দেয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ অয়েল এন্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশেেনর নেতৃবৃন্দ।  ৫ আগষ্ট বন্দর নগরী চট্টগ্রামে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই অভিযোগ করা হয়। সভায় তারা দেশের স্পর্শকাতর এই খাতকে বেসরকারিকরণের পরিকল্পনাকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং যে কোনো মূল্যে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করারও ঘোষণা দেন।

সভায় ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কায়ছার হামিদ বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সরকারের মধ্যেই ঘাপটি মেরে থাকা মুখোশধারী ও সুবিধাবাদী কিছু কর্মকর্তা বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত তেল আমদানির সুযোগ করে দিতে চাইছে। এটা হলে দেশের মানুষ মুষ্টিমেয় কিছু ব্যবসায়ির কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। ইতোপূর্বে অপরিশোধিত জ্বালানী তেল আমদানির অনুমোদন দেয়ার পর কি ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেটি তার বড় একটি উদাহরণ। তাই এবার পরিশোধিত তেল আমদানির পরিকল্পনা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন হতে দেওয়া যাবে না। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ তৈরিতে সম্ভাব্যতা যাচাই ও পর্যালোচনা করার নামে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে চিঠি দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এতে হতবাক ও বিস্মিত হন জ্বালানী খাতের সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারিরা। সভায় ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ এটাকে অশনিসংকেত হিসেবে উল্লেখ করে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান। একইসঙ্গে যারা এই কার্যক্রমে জড়িত, তাদের অবিলম্বে সরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশের মানুষ কখনও তাদের ক্ষমা করবে না বলেও হুশিয়ার করে দেন।

স্পর্শকাতর জ্বালানি খাতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়- এমন অভিযোগ করে ফেডারেশনের মহাসচিব মুহাম্মদ এয়াকুব বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুপারিশকে আমলে নিয়ে সরকার যেখানে শ্রমিকদের নায্য অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, শ্রম আইনকে শ্রমিকবান্ধব করার কথা বলছে, শ্রমিক নেতাদের সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসি তার উল্টো পথে হাঁটছে, কোণঠাসা করার অপচেষ্টা করছে। বিশেষ করে, জ্বালানী মন্ত্রণালয় ও বিপিসি অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শ্রম আইনের ১৮৭ ধারা জ্বালানী খাতের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের ক্ষেত্রে রহিত করার জন্য শ্রম মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছেন। এটা জ্বালানীখাতের শ্রমিক-কর্মচারিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, কুচক্রী মহল জ্বালানি খাতের শ্রমিক নেতাদের গায়ে কালিমা লেপনের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারিদের নায্য অধিকার আদায়ের পথ রুদ্ধ করে দিতে চায়। মিথ্যা অভিযোগে ঢালাওভাবে চরিত্রহনন কারো কাম্য হতে পারে না। তাছাড়া জ্বালানী মন্ত্রণালয় ও বিপিসি’র একের পর এক চিঠি দিয়ে, কমিটি করে সেক্টরের শ্রমিক নেতাদের কোনঠাসা করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনভাবে মেনে নেওয়া যায় না। অথচ সেক্টরের অনেক কর্মকর্তার অনিয়ম, দূর্নীতি তদন্তে প্রমাণিত হলেও তার কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, জ্বালানী খাতে কোন অনিয়ম-দুর্নীতি চলতে দেয়া হবেনা। কিন্তু সভায় বিপিসির আওতাধীন বিপণন কোম্পানির শ্রমিক-কর্মচারিদের সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভোগ করে আসা প্রান্তিক সুযোগ-সুবিধা কাটছাঁট করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে প্রান্তিক সুবিধা পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়। এতে ষড়যন্ত্রের আঁচ পাওয়া যায়।

বিপণন কোম্পানী সমূহ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ ও বাংলাদেশ শ্রম আইন,২০০৬ এর বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। শ্রমিক-কর্মচারীদের সকল পাওনাদি শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে আসছে। কোম্পানী সমূহ পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিচালনা পরিষদ সর্বেসর্বা হলেও অযাচিত ও বে-আইনীভাবে জ্বালানী মন্ত্রণালয় ও বিপিসি কোম্পানী সমূহের উপর খবরদারী করা সহ্য করা হবেনা।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সিবিএ সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, ইস্টার্ণ রিফাইনারী এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান, পদ্মা অয়েল কোম্পানি সিবিএ সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, ইস্টার্ণ রিফাইনারী সিবিএ সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, ফেডারেশনের অর্থ সম্পাদক হামিদুর রহমান, যমুনা সিবিএ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির, পদ্মা সিবিএ সাধারণ সম্পাদক সাহাদাত হোসেন, এলপিজি’র সিবিএ সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তবিরুল ইসলাম, পদ্মা সিবিএ অর্থ সম্পাদক ইয়াহিয়া আহাদ প্রমুখ।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), এর আওতাধীন তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি, তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, এসএওসিএল, এলপিজি ও পাইপলাইন ট্রান্সমিশন কোম্পানির লেবার ইউনিয়ন নিয়ে এই ফেডারেশন।

 

 

জা ই / এনজি