১৯৩৪ সালের ৩ নভেম্বর সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বিরাহীমপুরে জন্মগ্রহণ করেন মাহবুব আলী খান। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দিয়ে কোয়েটার সম্মিলিত বাহিনী একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেন। পরে যুক্তরাজ্যের ডার্টমাউথ রয়্যাল নেভাল কলেজ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৩ সালে পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্যে বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে দেশে ফিরে নবগঠিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির প্রথম বাঙালি কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথম বড় যুদ্ধজাহাজ বিএনএস ওমর ফারুক দেশে আনা হয়।
১৯৭৯ সালে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন এবং ১৯৮০ সালে রিয়ার অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত হন। তাঁর নেতৃত্বে নৌবাহিনীর সাংগঠনিক পুনর্গঠন, প্রশিক্ষণব্যবস্থার উন্নয়ন, আইনগত কাঠামো প্রণয়ন এবং আধুনিকায়নের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়। সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন মাহবুব আলী খান। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর বেতন ও পেনশন কমিটির চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক পুনর্গঠন বাস্তবায়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ, যোগাযোগ এবং কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্বকালে শাহজালাল সেতু, লামাকাজী সেতু ও শেওলা সেতুসহ সিলেট অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
১৯৮৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি শেষে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন ৬ আগস্ট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর।






