সন্ধ্যা ৬:০৪ | শনিবার | ১১ জুলাই, ২০২৬ | ২৭ আষাঢ়, ১৪৩৩, বর্ষাকাল | ২৫ মহর্‌রম, ১৪৪৮

আর্জেন্টিনার ম্যাচে যে কারণে ইংলিশ রেফারি ‘নিষিদ্ধ’

স্পোর্টস ডেস্ক

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচে মূল রেফারির দায়িত্বে ছিলেন পোলিশ, মিশরীয়, রোমানিয়ান, কানাডিয়ান, এমনকি ফরাসি রেফারি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাচ পরিচালনা করবেন পর্তুগিজ রেফারি। প্রায় সব দেশের রেফারির বাঁশির শব্দ শুনেছেন মেসিরা। কিন্তু কোনো ইংলিশ রেফারি  নেই!

কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড নরওয়েকে বিদায় করলে অলিভার ও টেলর দুজনেই দুই সেমিফাইনালের যে কোনো একটি ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পাবেন না। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার পেছনে আছে ভূরাজনৈতিক কারণ।

ফকল্যান্ড যুদ্ধের ক্ষতই এর কারণ। ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত এই দীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলেছে। এখনো সেই উত্তেজনার রেশ কাটেনি।

Maradona Inglaterra

তারপর থেকে দুই দেশের মধ্যে মাঠে ও মাঠের বাইরে বিদ্বেষ চলে আসছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা। স্বাধীনতার পর স্পেনের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এবং ১৮৩৩ সাল পর্যন্ত দখল করে রাখা এই দ্বীপপুঞ্জের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি অব্যাহত রেখেছে। ইংরেজদের ‘জলদস্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো, তাদের প্রতি এই ক্ষোভ মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এটি ছিল একটি খেলার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এটি ছিল ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘শতাব্দীর সেরা গোল’-এর মঞ্চ। ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা তার আত্মজীবনীতে এর সারসংক্ষেপ করেছেন: ‘আমি ফকল্যান্ডসের কথা ভাবতে ভাবতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলাম।’

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল পাঁচবার। ইংল্যান্ড তিনবার জিতেছে ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ২০০২ সালে। আর্জেন্টিনা ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালে জয় পেয়েছিল। দুই দলই যদি তাদের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ জেতে তাহলে আগামী বুধবার আটলান্টা আবার তাদের দেখা হবে। এই ঐতিহাসিক ম্যাচ হলে টেলর ও অলিভারের বিশ্বকাপ শেষ হতে চলেছে।

 

 

কা হি/ এনজি