তৃতীয় দফা জানাজা শেষে নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ভোলা-১ ও ভোলা-২ আসনের নয়বারের সাবেক সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদকে।
তোফায়েল আহমেদের জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভোলা সদর উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জানাজায় তোফায়েল আহমেদের স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় পরিবারের পক্ষ থেকে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চান স্বজনরা।
এর আগে সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তোফায়েল আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পক্ষাঘাতসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তিনি সিসিইউ ও পরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
জানাজায় অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাজনীতির বাইরে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন একজন জনবান্ধব মানুষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে তার ভূমিকা অবিস্মরণীয়। ভোলার উন্নয়নে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তারা আরও বলেন, তার মৃত্যু ভোলাবাসীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। জানাজা শেষে কবরে একমুঠো মাটি দিতে পেরে তারা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর ভিপি ছিলেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে বাণিজ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
রা ই / এনজি






