রাত ১০:০৩ | রবিবার | ১০ মে, ২০২৬ | ২৭ বৈশাখ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল | ২২ জিলকদ, ১৪৪৭

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ : বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকীগুলো কী বলছে

AI-জেনারেটেড ছবি
লেখাটি আমি যখন লিখছি তখন বিশ্বের আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী দুটি জার্নাল, সায়েন্স (Science) এবং দ্য ল্যানসেট (The Lancet)-এ প্রকাশিত দুটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন আমার হাতে রয়েছে। প্রতিবেদন দুটি এপ্রিল মাসের ২০-৩০ তারিখের মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন।

হাম ভয়াবহ রকমের সংক্রামক একটি রোগ যেটি খুব দ্রুত একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে সংক্রামক রোগ। হাম প্রতিরোধের জন্য সারা বিশ্বেই শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। আমাদের দেশে শিশুদের ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে ১ম ডোজ এমআর টিকা নয় মাস বয়সে এবং ২য় ডোজ ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হয়। তবে উন্নত দেশগুলোতে যেখানে এমএমআর টিকা ব্যবহৃত হয়, সেখানে সাধারণত প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ১২-১৫ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় ৪-৬ বছর বয়সে।

বাংলাদেশ বহু বছর ধরে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ছিল। হাম, পোলিওসহ অনেক রোগ দেশ থেকে নির্মূলের পথে ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বাংলাদেশে এত বড় হামের প্রাদুর্ভাব এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলকে বিস্মিত করেছে।

বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স যা বলেছে

বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’ ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে ‘Measles explodes in Bangladesh after vaccination breakdown, killing hundreds of children’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশে হামের এই বিস্ফোরণ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি টিকাদান ব্যবস্থার ব্যাঘাত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফল।

‘সায়েন্স’ বলছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থা বন্ধ করে উন্মুক্ত দরপত্রভিত্তিক (open tender) পদ্ধতি চালু করে। এই ব্যবস্থায় সরকার বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করে এবং যাচাই-বাছাই শেষে ক্রয়াদেশ প্রদান করে। ইউনিসেফ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিল। সংস্থাটির আশঙ্কা ছিল যে নতুন ব্যবস্থা টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এবং এর ফলে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। [তথ্যসূত্র: ১]

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স-এর উদ্ধৃতি দিয়ে উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থার এ পরিবর্তন ও এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং বারবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন। রানা ফ্লাওয়ার্স ‘সায়েন্স’কে বলেছেন, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমকে বলেছিলেন, “দয়া করে, এমনটি করবেন না।”

ইউনিসেফের সে আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়েছে। সায়েন্স-এর প্রতিবেদনটি বলছে, নতুন দরপত্রভিত্তিক টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়া প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতায় আটকে যায়। এর ফলে টিকার সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে টিকার সংকট সৃষ্টি হয়। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে শুরু করে, কারণ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় টিকা পাওয়া যাচ্ছিল না।

এদিকে হাম-রুবেলা (MR) টিকার অতিরিক্ত জাতীয় ক্যাম্পেইন, যা মূলত ২০২৪ সালে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০২৫ সালে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেটিও শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়।

হাম ভয়াবহ রকমের সংক্রামক একটি রোগ যেটি খুব দ্রুত একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে সংক্রামক রোগ। হাম প্রতিরোধের জন্য সারা বিশ্বেই শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। আমাদের দেশে শিশুদের ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে ১ম ডোজ এমআর টিকা নয় মাস বয়সে এবং ২য় ডোজ ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হয়।

সায়েন্স-এর প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষদিকে সরকারি টিকাদান কর্মসূচির তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে টিকা পাওয়ার যোগ্য শিশুদের মধ্যে মাত্র ৫৯ শতাংশ শিশু হামের টিকা গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত ছিল। প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে যে, মার্চের শেষ দিকে টিকা প্রদানের এ তথ্য সরকারিভাবে প্রকাশিত ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। [তথ্যসূত্র: ১]

সায়েন্স মূলত বিশ্বকে এই বার্তা দিয়েছে যে, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতার কারণে খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং বহু বছরের অর্জিত সাফল্য অল্প সময়েই হারিয়ে যেতে পারে।

মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেট যা বলছে

বিশ্বের আরেকটি প্রভাবশালী মেডিকেল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট’-এ গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ‘Unusual measles mortality in Bangladesh signals an immunisation emergency’- শীর্ষক একটি করেস্পন্ডেন্স আর্টিকেল প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শুধু হামের সংখ্যা বাড়ছে না; বরং অস্বাভাবিক মাত্রায় শিশুমৃত্যু ঘটছে। হাসপাতালগুলোতে অত্যন্ত গুরুতর অবস্থার শিশু ভর্তি হচ্ছে এবং অনেক শিশুর অক্সিজেন ও নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হচ্ছে।

ল্যানসেটের সে আর্টিকেলটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এ অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মূল কারণ হলো, “ইমিউনিটি ফেইলিয়ার”। একটি জনগোষ্ঠীর অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষ কোনো রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকাপ্রাপ্ত হলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হয়, যা সে কমিউনিটিতে সে রোগের বিস্তার রোধ করে। দেশে ২০২৪ সালে হামের টিকা গ্রহণের হার প্রায় ১০০ শতাংশ কমে ৮৬ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৫৯ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ দেশে এত বেশি শিশু টিকাবঞ্চিত হয়েছে যে হামের বিস্তার ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত জনসুরক্ষা বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ আর অবশিষ্ট ছিল না।

ল্যানসেটের আর্টিকেলে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৫০ লাখ শিশু পূর্ণমাত্রায় টিকাপ্রাপ্ত হয়নি। এর মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার শিশু কোনো টিকাই পায়নি। [তথ্যসূত্র: ২]

ল্যানসেটের উক্ত আর্টিকেলে তারা শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেনি; একটি সুস্পষ্ট করণীয় পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছে। সংকট মোকাবিলায় তাদের প্রস্তাবগুলো হলো—

১) প্রতিটি হাম আক্রান্ত শিশুর পরিবারকে দ্রুত শনাক্ত করতে হবে;

২) আশপাশের শিশুদের জরুরি টিকা দিতে হবে;

৩) জেলাভিত্তিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে;

৪) অপুষ্টি ও ভিটামিন-এ ঘাটতি মোকাবিলা করতে হবে;

এবং ৫) টিকাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে বিশেষভাবে শনাক্ত করতে হবে;

ল্যানসেট মূলত বিশ্বকে এই বার্তা দিয়েছে যে, শুধুমাত্র জাতীয় গড় টিকাদান হার দেখে সন্তুষ্ট থাকলে হবে না; কোন এলাকার শিশুরা টিকার বাইরে রয়ে যাচ্ছে, সেটি খুঁজে বের করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যেটির ঘাটতি এখন বেশ প্রকট।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যা বলছে

বাংলাদেশে হামের বিস্তার নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খুব উদ্বিগ্ন। সংস্থাটি ২৩ এপ্রিল ২০২৬, Disease Outbreak News শাখায় ‘Measles – Bangladesh’ শীর্ষক একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সে প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ হয় টিকা গ্রহণ করেনি, অথবা হাম-সম্বলিত টিকার মাত্র একটি ডোজ গ্রহণ করেছিল। এছাড়া, কিছু শিশু ৯ মাস বয়সে টিকা গ্রহণের উপযুক্ত বয়সে পৌঁছানোর আগেই সংক্রমিত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, দেশে হাম আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই (৯১ শতাংশ) ছিল ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু। এর মধ্যে প্রায় ৭৯ শতাংশ ছিল ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। ৫ বছরের কম বয়সী শিশু আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ২ বছরের কম বয়সী শিশু ছিল ৬৬ শতাংশ এবং ৯ মাসের কম বয়সী নবজাতক শিশু ৩৩ শতাংশ।

সে প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে ১৫ মার্চ ২০২৬ থেকে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত যে মোট ১৬৬টি হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে, যাদের বেশিরভাগই ২ বছরের কম বয়সী শিশু যারা হামের টিকা পায়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উক্ত প্রতিবেদন বলছে, হামের এ প্রাদুর্ভাবের আগে বাংলাদেশ হাম নির্মূলের লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফের যৌথ হিসাব অনুযায়ী, হাম-সম্বলিত টিকার প্রথম ডোজ (MCV1) গ্রহণের হার ২০০০ সালে ৮৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৬ সালে ১১৮ শতাংশে পৌঁছায়।

একইভাবে, দ্বিতীয় ডোজ (MCV2) গ্রহণের হারও ২০১২ সালে দেশব্যাপী চালুর সময় ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১২১ শতাংশে উন্নীত হয়। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগের প্রকোপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। [তথ্যসূত্র: ৩]

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২০২৫ সালে হাম ও রুবেলার যৌথ টিকা, এমআর টিকার দেশব্যাপী সংকটের কারণে লাখ লাখ শিশুর এ দুটি টিকার পূর্ণাঙ্গ দুটি ডোজ বা একটি ডোজও না পাওয়া, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের ঘাটতি এবং ২০২৪ সালে নির্ধারিত সম্পূরক হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন না করার কারণে সংবেদনশীল শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইউনিসেফ কী বলছে?

ইউনিসেফ (UNICEF) হলো জাতিসংঘের একটি বিশেষ সংস্থা, যা বিশ্বজুড়ে শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে। সংস্থাটি ৮ এপ্রিল ২০২৬ বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতি নিয়ে ‘Bangladesh Humanitarian Situation Report No. 1 (Measles Outbreak)’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ইউনিসেফের প্রতিবেদন বলছে, দেশে সাম্প্রতিক হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো শিশুদের মধ্যে টিকাদান ঘাটতি, যার ফলে বিপুল সংখ্যক শিশু সুরক্ষাবিহীন থেকে গেছে এবং গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ এমন শিশু, যারা এখনো টিকা গ্রহণের উপযুক্ত বয়সে পৌঁছায়নি (৯ মাস বয়সের নিচে), এরপর রয়েছে কোনো টিকা না পাওয়া (zero-dose children) এবং অপর্যাপ্ত টিকাপ্রাপ্ত শিশু।

দেশে ২০২৪ সালে হামের টিকা গ্রহণের হার প্রায় ১০০ শতাংশ কমে ৮৬ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৫৯ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ দেশে এত বেশি শিশু টিকাবঞ্চিত হয়েছে যে হামের বিস্তার ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত জনসুরক্ষা বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ আর অবশিষ্ট ছিল না।

ইউনিসেফের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ টিকাদান কভারেজের শক্তিশালী ইতিহাস রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, তারা বারবার সরকারকে সতর্ক করলেও, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হামের ১ম ডোজ এবং ২য় ডোজ টিকাদান কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে এবং এর ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রোগপ্রতিরোধ ঘাটতি বেড়ে গেছে এবং এটিই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। [তথ্যসূত্র: ৪]

শেষ কথা

হাম নিয়ে সায়েন্স ও দ্য ল্যান্সেটের মতো বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান ও চিকিৎসা সাময়িকী এবং ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন প্রকাশ নিঃসন্দেহে একটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য মহলের একটি শক্তিশালী বার্তা। প্রতিবেদনগুলোয় ফুটে উঠেছে—

১) হামের মতো ভয়াবহ রোগ প্রতিরোধে টিকাদান ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ;

২) রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতা জনস্বাস্থ্যকে কীভাবে বিপন্ন করতে পারে;

এবং ৩) সরকারের প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে বহু বছরের অর্জিত স্বাস্থ্যসাফল্য কত দ্রুত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের ফলে বাংলাদেশের প্রতি উন্নত দাতা দেশ ও সংস্থাসমূহের নজরদারি বাড়বে, ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা বৃদ্ধি পাবে ও সরকারকে আরও বেশি সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে চাপ প্রয়োগ করবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন সরকারের জরুরি টিকাদান কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। এখন দরকার হামের বিস্তার ঠেকাতে সারভেইলান্স বাড়ানো ও হাম আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র:

১। Measles explodes in Bangladesh after vaccination breakdown, killing hundreds of children. Science. 2026. doi:10.1126/science.adr6793

https://www.science.org/content/article/measles-explodes-bangladesh-after-vaccination-breakdown-killing-hundreds-children

২। Unusual measles mortality in Bangladesh signals an immunisation emergency. Lancet. 2026;407(10497):1596–1597. doi:10.1016/S0140-6736(26)00720-4

https://www.thelancet.com/journals/lancet/article/PIIS0140-6736(26)00687-2/fulltext

৩। World Health Organization. Disease Outbreak News: Measles — Bangladesh. Geneva: WHO; 2026

https://www.who.int/emergencies/disease-outbreak-news/item/2026-DON598

৪। Bangladesh Humanitarian Situation Report No. 1(Measles Outbreak), UNICEF, 8 April 2026

https://www.unicef.org/documents/bangladesh-humanitarian-situation-report-no-1measles-outbreak-8-april-2026

 

 

লেখক : অধ্যাপক, ফার্মেসি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ajijur.rubd@gmail.com

জা ই / এনজি