রাত ১০:৫২ | বৃহস্পতিবার | ২৮ মে, ২০২৬ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল | ১০ জিলহজ, ১৪৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ মে ২০২৬
সরকার চলতি বছর গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়িয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই দামে চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা। অনেক ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় প্রতি পিসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দাম পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ছাগলের চামড়া কিনতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে এসে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা।

শ্যামলীর একটি অস্থায়ী সংগ্রহকেন্দ্রে চামড়া বিক্রি করতে আসা মো. রাশেদ নামে এক ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, ‘গত বছর যে চামড়া ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি, এবার সেটার জন্য ৮০০ টাকার বেশি কেউ বলছে না। সরকার দাম বাড়ালেও মাঠে তার কোনো প্রভাব নেই।’

মালিবাগ এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ী আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘ট্যানারি মালিকরা আগেই বলে দিয়েছেন বেশি দামে চামড়া নেবেন না। তাই বাধ্য হয়ে কম দামে কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে কিনলে পরে লোকসান হবে।

আরেক ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া ছাগলের চামড়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘ছাগলের চামড়া তো প্রায় কেউ নিতে চাচ্ছে না। অনেকে বিনামূল্যেও দিয়ে দিচ্ছেন। সংরক্ষণ খরচ তুলতেই কষ্ট হবে।’

তবে পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, চামড়ার বাজার পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। হাজারীবাগ এলাকার এক আড়তদার বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি পিসে ৫০-৬০ টাকা বেশি দামে চামড়া কেনা হচ্ছে। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনেক সময় সঠিকভাবে লবণ না দেওয়ায় দাম কমে যায়।

এর আগে গত ১৩ মে চামড়া খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করে সরকার। নির্ধারিত দামে ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য ধরা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

সে হিসেবে ছোট আকারের গরুর চামড়ার দাম হওয়ার কথা প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। মাঝারি আকারের চামড়ার দাম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা এবং বড় আকারের চামড়ার দাম ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেই দাম মিলছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

চামড়া ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, ট্যানারি পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব, সংরক্ষণ সংকট ও নগদ অর্থের ঘাটতির কারণে প্রতিবছরের মতো এবারও মাঠপর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

 

 

টি আই/ এনজি