রাত ১২:৩২ | শনিবার | ১৬ মে, ২০২৬ | ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল | ২৮ জিলকদ, ১৪৪৭

স্টার লাইনের ধাক্কায় সড়কেই শেষ হলো মুফতি মমিনের পরিবারের জীবনের গল্প

জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালী
২৭ মার্চ ২০২৬

 

রাজধানীতে একটি মাদরাসা পরিচালনা করতেন মুফতি আব্দুল মমিন। ঈদের ছুটি শেষে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে গেল শেষ যাত্রা।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কালাকচুয়া এলাকায় বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্ত্রী-সন্তানসহ প্রাণ হারান তিনি।

নিহতরা হলেন— নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আইয়ুব আলী মাস্টারের বাড়ির মৃত ইউনুস মুন্সীর ছেলে মুফতি আব্দুল মমিন (৫০), তার স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), ছেলে সাইফ (৭), মেয়ে লাবিবা (১৮) এবং প্রাইভেটকারচালক জামাল হোসেন (৫২)। চালকের বাড়ি বরিশাল জেলায়।

দুর্ঘটনায় আব্দুল মমিনের আরেক ছেলে আবরার (১২) গুরুতর আহত হয়ে কুমিল্লার ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিহত মুফতি মমিনের চাচাতো ভাই ওহিদ উল্যাহ বলেন, পরিবার নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মমিন ছিলেন বড়। এর আগে তার আরও দুই ভাই মারা গেছেন। তিনি মোহাম্মদপুরে একটি মাদরাসা পরিচালনা করতেন।

কুমিল্লায় স্টার লাইন বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের চারজনসহ নিহত ৫

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল বলেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকে স্তব্ধ পরিবার ও এলাকাবাসী। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন মমিন, কিন্তু আর কর্মস্থলে ফেরা হলো না। এক যাত্রায় যেন শেষ যাত্রা হয়ে গেল।

ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। একই পরিবারের এতগুলো প্রাণ একসঙ্গে ঝরে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। পুরো ইউনিয়নজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহত শিশুটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় মিয়ামি হোটেলের সামনে স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকারের চালক নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়।

 

 

 

টি আই / এনজি