রাত ১০:৩২ | সোমবার | ৪ মে, ২০২৬ | ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল | ১৬ জিলকদ, ১৪৪৭

সুষ্ঠু নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য দাবি বিএনপির

 

নির্বাচন বানচালে পরিকল্পিভাবে অপপ্রচার ছড়ানোর পাশাপাশি জাল ভোটের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।  মঙ্গলবার সকালে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, গত ২২শে জানুয়ারি থেকে শেষ দিন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণার উৎসবমুখর এই সময়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদন, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ও জরিপের ফলাফল, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও বিপুল উপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা মিলিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি সর্বোচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। সারা দেশে বিএনপির পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবায।

তিনি বলেন, এই বাস্তবতা উপলদ্ধি করে, একটি নির্দিষ্ট দল ক্রমাগত অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। সহিংস রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করে ভোট চাইছে এবং এমনকি জাল ভোটের প্রস্তুতিও দেখা যাচ্ছে। জনরায়ের শক্তির মুখে দাঁড়িয়ে এ ধরনের অপকৌশলই তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।

মাহদী আমীন বলেন, যারা সারাক্ষণ সততা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ইনসাফের বয়ান তৈরি করেন, তারাই যদি নির্বাচনের মাঠে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই বিষয়ে খোদ দলীয় প্রধানের (শফিকুর রহমান) আসন ঢাকা-১৫ তে তার জন্য দাড়িপাল্লার ভোট চাইতে দলটির অন্যতম শীর্ষ আইনজীবী নেতা যেভাবে প্রকাশ্যে টাকা দিয়েছেন এবং ভোট কেনার চেষ্টা করেছেন, সেই ভিডিও ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ভাইরাল হয়ে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে যে দলটি নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা সেই প্রচারণাতেই মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছেন, যা নির্বাচনী আচরণ বিধির চরম লঙ্ঘন। কুমিল্লা এবং বগুড়া-৪ আসনে একটি রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন,আমরা জানতে পেরেছি, সেই দলের একজন শীর্ষ নেতার আসন, কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রামে ওই দলের সন্ত্রাসীরা রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। এছাড়া বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪নং থালতামাঝ গ্রামে চিহ্নিত সন্ত্রাসী কর্মীদের দ্বারা স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপর হামলা চালানো হয়, অনেকেই গুরুতর আহত হন এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়, যা জনমনে চরম ভীতি সৃষ্টি করেছে।আমরা এই ধরনের প্রতিটি ঘটনায়, অতি দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন তথা রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃংখলাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমীন বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি, ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে। তবে আমরা অন্তবর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রত্যেকের ওপর আস্থা রাখতে চাই। আমরা সবাই মিলে প্রতিটি রাজনৈতিক দল যদি দায়িত্বশীল আচরণ করে তাহলে নির্বাচনে সহিংসতা থেকে শান্তিপূর্ণ ভাবে আমরা জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব। গণঅভ্যুত্থানের আকাংখা ছিলো সেটি.. সবাই মিলে আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচনে ভোট নিয়ে আপনারা কী ভাবছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আশাবাদী জনগণ এখানে স্বাভাবিকভাবে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেন নাই। প্রত্যেকের মধ্যে একটি উৎসবমূখর অবস্থা রয়েছে। সহিংসতা না শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকবে সেটি আমাদের প্রত্যাশা। বিএনপি সব চাইতে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে যেন ইতিবাচক পরিবেশ থাকে এবং সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান কবর যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে যার যার জায়গা থেকে ভূমিকা রাখবে।

 

 

জা ই / এনজি