রাত ১২:০৮ | বৃহস্পতিবার | ৯ জুলাই, ২০২৬ | ২৫ আষাঢ়, ১৪৩৩, বর্ষাকাল | ২৩ মহর্‌রম, ১৪৪৮

মিশর কি ভিএআর ও রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার?

স্পোর্টস ডেস্ক
মিশর কি ভিএআর ও রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার?

এবারের বিশ্বকাপে ভিএআর নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। প্রায় প্রত্যেক ম্যাচে এই প্রযুক্তি আলোচনায় আসছে। সবশেষ আটলান্টায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভিএআর ও রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে যা হলো, তা হয়তো মিশর সারাজীবন মনে রাখবে। রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন তাদের খেলোয়াড় ও কোচরা। রেফারির নেওয়া সেই সিদ্ধান্তগুলো কি যথাযথ ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোও। 

মিশরীয় খেলোয়াড় একই সঙ্গে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জার্সি টেনে ধরেছিলেন এবং তার পায়ে পা দিয়ে চাপ দিয়েছিলেন। স্ক্রিনে দেখার পর ফরাসি রেফারি ফ্রাসোঁয়া লেটেক্সিয়ের ভিএআরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হন এবং গোলটি বাতিল করেন।

ঘটনাটি মাঠের বেশ ওপরের দিকে ঘটায় কিছুটা বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে এই ধরণের ফাউল যখন একই আক্রমণের ধাপে ঘটে এবং তার ফলে সরাসরি গোল হয়, তখন তা বাতিল করতেই হবে। রেফারিকে যখন একই সঙ্গে জার্সি টানা ও পায়ে পা দেওয়ার ছবি দেখানো হয়, তখন তার আগের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কোনো সুযোগই ছিল না।

 

এখানেই শেষ নয়। আরেকটি ঘটনা ঘটে মিশরের পেনাল্টির আবেদন নাকচ করার কারণে। ম্যাচের শেষ দিকে মিশর দুটি আলাদা ফাউলের দাবি জানায়। এর মধ্যে মধ্যে একটি ঘটেছিল ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধের স্টপেজ টাইমে দ্বিতীয় মিনিটে আর্জেন্টিনার গোল করার ঠিক আগে। দুটি ঘটনাই ঘটেছিল আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সের ভেতরে।

আরেকটি ঘটনা ম্যাচের শেষ মুহূর্তে। মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন, তিনি আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে আক্রমণ করার সময় জুলিয়ান আলভারেজ তার পায়ের ওপর পা দিয়ে চাপ দিয়েছিলেন। এবারও রেফারি মনে করেননি যে ডিফেন্ডারের সেই স্পর্শটি ফাউল দেওয়ার মতো ছিল।

যদিও রেফারি দুইবারই ভিএআরে রিভিউ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। বিশেষ করে ম্যাক অ্যালিস্টারের প্রথম ঘটনাটি পিচের যে জায়গায় ঘটেছিল। তা একটি দ্বিমুখী পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। কারণ সেখানে ভিএআর রেফারিকে ফাউল দেখার অনুরোধ জানালে একদিকে আর্জেন্টিনার গোলটি বাতিল হতো এবং অন্যদিকে বিপরীত প্রান্তে মিশরের পক্ষে পেনাল্টি দেওয়া হতো। তবে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের অ্যাকশন বিবেচনা করে ভিএআরের মনে হয়েছে, কোনোটিই হস্তক্ষেপ করার মতো ফাউল ছিল না।

Image

কারণ ম্যাক অ্যালিস্টার বলের বাইরে ফাতির জার্সি টেনে ধরে বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন। তবে এটি ছিল খুবই সামান্য। সেটা দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ওপর কোনো বাস্তব প্রভাব ফেলেনি। তাই এটি পেনাল্টি দেওয়ার মতো বড় ফাউল ছিল না।

সালাহকে পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তটিও সঠিক ছিল। আলভারেসের ফাউল করার চেয়ে সালাহ নিজেই পেনাল্টি পাওয়ার চেষ্টা বেশি করছিলেন। এই ধরণের পরিস্থিতিতে ডিফেন্ডারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ফাউলের অ্যাকশন থাকতে হয়। কিন্তু এখানে কন্ট্যাক্টটি ছিল মূলত বুটের সঙ্গে বুটের। সালাহ অপ্রয়োজনীয়ভাবে মাটিতে পড়ে যান।

মিশরের বাতিল হওয়া গোলের আগের ফাউলটির সঙ্গে সালাহর ঘটনার তুলনা হতে পারে। তবে মূল পার্থক্য হলো আগের ঘটনাটিতে একজন ডিফেন্ডার আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের পায়ের ওপর পা দিয়ে চেপে ধরেছিলেন। অন্যদিকে সালাহর ঘটনাটি গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, এটি ছিল মূলত দুই খেলোয়াড়ের গতির কারণে বুটের সঙ্গে বুটের সাধারণ সংঘর্ষ।

ম্যাচ শেষে রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মিশরের জিকো বলেন, ‘রেফারি অন্যায় করেছেন, অন্যায় করেছেন। রেফারি একদমই ফেয়ার ছিলেন না। তিনি একজন জালিম। এটি স্পষ্ট ও দিবালোকের মতো পরিষ্কার তিনি অবিচার করেছেন। তিনি একটি দেশের পুরো পরিশ্রমকে এক নিমিষে নষ্ট করে দিলেন। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।’

কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘নিজেদের ব্যবসার জন্য ফিফা আর্জেন্টিনা ও মেসিকে রেখে দিতে চায়। যদি তারা আর্জেন্টিনার জয়ই চেয়েছে তাহলে অন্য দলগুলোকে অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানায় কেন? ম্যাচটি সম্পূর্ণ কারচুপি ছিল। পুরো বিশ্ব এটি দেখেছে। আমরা আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো ছিলাম। ফুটবল ফেয়ার নয়।’

 

 

 

জা ই/ এনজি ডেস্ক