স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দিনাজপুর এসেছিলেন খাল খনন করতে এবং সারাদেশে তিনি খাল খনন করছেন। যাতে বৃষ্টির দিনে পানি আটকে রেখে সেচের কাজ করতে পারে কৃষকরা। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড দেওয়া শুরু করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মশালয়ের ইমাম পুরোহিত, ফাদার্স অর্থাৎ ধর্মপ্রচারকদের জন্য ভাতা ব্যবস্থা করা হয়েছে সেইসঙ্গে খেলোয়াড়দের কেউ ভাতা প্রদানে ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা আর্থিকভাবে দুর্বল তাদের আর্থিক অবস্থা বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী কাজ করছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সরকার নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের মির্জা রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং এলজিইডি ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয়প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হঠাৎ করে একটা দুর্যোগ এসে গেছে। ইরান-আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেই যুদ্ধ পুরো বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বাংলাদেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের এখানে জ্বলানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। আমি রাস্তায় দেখলাম পেট্রোল পাম্পগুলোতে অনেক মোটরসাইকেল, এটা একটা সমস্যা। এই সমস্যাটা তেল সরবরাহ কমের জন্য নয়, এই সমস্যা কিছুটা তৈরি করা। দুঃখজনকভাবে কিছু মানুষ এখানে অনৈতিক ব্যবসা শুরু করেছে। যে ব্যবসাটা আমাদের জন্য এবং জাতির জন্য ক্ষতিকর। এগুলো করতে দেওয়া যাবে না। আমি প্রশাসনকে বলেছি, এটার দিকে নজর দিতে হবে। কেউ যেন কোনোভাবে অবৈধভাবে তেল বিক্রি করে ফায়দা নিতে না পারে।
তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ আছে। আপনারা আমাকে কাজ করার সুযোগ করে দেন, অযথা ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে আমাকে আটকে রাখবেন না। এর আগেও আমি আপনাদের বহুবার বলেছি। আমাকে কাজ করতে দিন, দয়া করে আমাকে আটকাবেন না। হিন্দু, মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই যেন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারি। এই সুযোগটা আমাদের দিতে হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আগামী রোববার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ হবে। এরইমধ্যে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কাজ চলছে। একইসঙ্গে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনর্নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু হয়েছে। রুহিয়া ও ভুল্লীকে উপজেলা করার জন্য অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বরাদ্দ পেয়ে যাবো। এখানকার স্কুল-কলেজগুলোর মান উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। উন্নয়ন ইনশাল্লাহ হবে।
তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা কখনো বিচলিত হবেন না। কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না। যারা মিথ্যা কথা বলে, মিথ্যা প্রচারণা করে তাদের প্রশ্রয় দেবেন না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে একটা শ্রেণি রয়েছে, যারা দেশের স্থিরতা নষ্ট করতে চায়। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটা ফ্যাসিস্টকে পরাজিত করেছি। ১৭-১৮ বছর ধরে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে ১৩ জন শহীদ হয়েছে। যারা শহীদ হয়েছে তাদেরকে আমরা উন্নত বাংলাদেশ উপহার দিতে চাই।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদা দাদ, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল আলম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।





