আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির সুরক্ষায় জরুরি বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা। শুক্রবার রিয়াদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ওই বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।
শুক্রবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠকে অংশ নিতে দেশটির সেনাপ্রধান শুক্রবার সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন। তবে বৈঠকটি ঠিক একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
সৌদির সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএতে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য তিন দেশের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে।
গত মাসে দেশ তিনটি এক ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, জোটের যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে তা অন্য দেশগুলো তাদের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করে যৌথভাবে রক্ষায় এগিয়ে আসবে।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ধাঁচের এমন শক্তিশালী সামরিক প্রতিশ্রুতি ও ধারা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান ও তুরস্ক এখন পর্যন্ত হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে নামেনি।
এসপিএ বলেছে, তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথভাবে সৌদির বেসামরিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে হুথিদের চালানো ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কায় চালানো হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। যদিও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা মক্কায় হামলার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার এক জোরালো বার্তায় সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি সালেহ বিন ফাওজান বিন আবদুল্লাহ আল-ফাওজান দেশটির সামরিক বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত থেকে নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুথি গোষ্ঠী ও তাদের মদদদাতাদের সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।
সূত্র: এএফপি
আ ই/ এনজি






