সকাল ৭:২২ | রবিবার | ১৭ মে, ২০২৬ | ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল | ২৯ জিলকদ, ১৪৪৭

পহেলা বৈশাখ: ঐতিহ্য, চ্যালেঞ্জ ও আমাদের করণীয়

মতামত

রোটারিয়াল রাবেয়া আক্তার

১১ এপ্রিল ২০২৬

 

পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসব। বাংলা নববর্ষের এই দিনটি আমাদের জীবনে নতুন আশার আলো নিয়ে আসে। এ দিনটি কেবল একটি নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই আনন্দ, উৎসব আর মিলনমেলার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়। আনন্দ শোভাযাত্রা, পান্তা-ইলিশ, লোকসংগীত, বৈশাখী মেলা—এসবই আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব ধীরে ধীরে তার স্বকীয়তা হারাতে বসেছে। এখন অনেকেই পহেলা বৈশাখকে কেবল একটি ফ্যাশন বা বিনোদনের দিন হিসেবে দেখছে। পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুকরণে আমাদের নিজস্ব পোশাক, খাবার ও আচার-অনুষ্ঠানের পরিবর্তে ভিন্নধর্মী উপাদান যুক্ত হচ্ছে। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকেই বৈশাখের প্রকৃত তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত নয়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রথমত, পরিবার থেকেই শিশুদের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা গড়ে তুলতে হবে। পহেলা বৈশাখের ইতিহাস, তাৎপর্য ও ঐতিহ্য সম্পর্কে তাদের জানাতে হবে।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈশাখের অনুষ্ঠানগুলো আরও গুরুত্বের সাথে আয়োজন করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।

তৃতীয়ত, গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টেলিভিশন, রেডিও ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে হবে এবং বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি, সরকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা আমাদের শেকড়ের সাথে সংযুক্ত থাকি। তাই আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করা জরুরি। যদি আমরা সচেতন হই এবং নিজস্ব সংস্কৃতিকে ভালোবাসি, তবে বৈশাখের এই সৌন্দর্য কখনোই হারিয়ে যাবে না।

 

লেখক ; চেয়ারপারসন গ্লোবাল নলেজ ফাউন্ডেশন, লাইব্রেরিয়ান এইউবি।

 

জা ই/ এনজি